দেশের ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ বা ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এখন থেকে রাতের বেলা কিশোরদের রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় বা অযাচিত ঘোরাঘুরি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
কিশোরদের গতিবিধিতে কঠোর নজরদারি
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রাতের বেলা কিশোররা রাস্তায় ঘোরাঘুরি করলে তাদের পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, “রাতে কিশোরদের রাস্তায় অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। এখন থেকে রাতে রাস্তায় ঘুরলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে—কেন ঘুরছে, কোথায় গিয়েছিল এবং কেন গিয়েছিল।” এই পদক্ষেপের আইনি বা সাংবিধানিক দিক নিয়ে সম্ভাব্য তর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে এর সাংবিধানিক দিকগুলো পরবর্তীতে পর্যালোচনা করা হবে, তবে বর্তমানে কিশোরদের নিরাপদ রাখতে এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
নিচে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য এবং সভার মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান আলোচ্য বিষয় | রাতের বেলা কিশোরদের অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ। |
| পুলিশের ভূমিকা | কিশোরদের অবস্থান ও উদ্দেশ্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ নিশ্চিত করা। |
| দুর্নীতি বিষয়ক বার্তা | “নিজে দুর্নীতি করব না, কাউকে করতে দেব না” – মন্ত্রীর প্রতিজ্ঞা। |
| কর্মকর্তাদের নির্দেশনা | সততার সাথে কাজ করতে না পারলে বদলি হয়ে যাওয়ার নির্দেশ। |
| উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ | জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। |
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জিরো টলারেন্স
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী কেবল কিশোর অপরাধ নিয়েই নয়, বরং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় বলেন, “আমি জীবনে দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না—এটি আমার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, যারা তাঁর এই নীতির সাথে একমত হতে পারবেন না, তারা যেন স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। অন্যথায় তিনি নিজেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।
প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
চাঁদপুরের কচুয়ায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন। মন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রত্যাশা করেন যে, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে সকলে একযোগে কাজ করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং কালচার রোধে পারিবারিক তদারকির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় এই কঠোর অবস্থান অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে মফস্বল শহর ও গ্রাম পর্যায়ে কিশোরদের বিপথগামী হওয়া রোধে পুলিশের এই নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
