কিশোরী ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর দায়ে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দেবাশীষ মল (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে একই গ্রামের হৃদয় ঘোষসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

গ্রেফতারকৃত দেবাশীষ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুলতিয়া গ্রামের ভোলানাথ মলের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে র‍্যাব-৬-এর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর বাবা মালায়েশিয়ায় প্রবাসী। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দেবাশীষ কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং বাধা দিলে তাকে জখম করে। এরপর কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভয় দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এভাবেই কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

কিশোরী এই ঘটনা তার পরিবারকে জানালে সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর মা ২৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

র‍্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কর্মকর্তা জানান, দেবাশীষকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিচের টেবিলে মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো হলো:

বিষয়বিবরণ
অভিযোগের ধরনধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া
ভুক্তভোগীর বয়স১৬ বছর
গ্রেফতারকৃত যুবকের নামদেবাশীষ মল (২২)
গ্রেফতারের স্থানপাটকেলঘাটা থানার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকা
সহযোগী আসামিরাহৃদয় ঘোষসহ আরও কয়েকজন
মামলা দায়েরের তারিখ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
দায়েরকৃত আইননারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন
তদন্তকারী সংস্থার‍্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্প

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, দেবাশীষকে গ্রেফতারের পর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য র‍্যাব এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং সমাজে কিশোরী ও নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।