যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই রাশিয়া আবারও কিয়েভে তীব্র হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে কিয়েভের রাতের তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে, আর পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে রাতের তাপমাত্রা মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চরম শীত এবং হামলার সমন্বয় সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে শীতকালীন হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন। ক্রেমলিনও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রবিবার পর্যন্ত বলেছিল। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও রাশিয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, “প্রচণ্ড শীতের রাতে রাশিয়া আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। বাসিন্দাদের জরুরি অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, এই হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভেও রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুই জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ জানিয়েছেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। তার ভাষ্য, “উদ্দেশ্য ছিল সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং তীব্র তুষারপাতের মধ্যে শহরকে তাপহীন করা।”
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ হবে। ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা বুধবার আবুধাবিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত ইস্যুতে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। রাশিয়া চাইছে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে, যা কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই হামলার প্রভাব এবং আবহাওয়ার চরম অবস্থার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| শহর | রাতের তাপমাত্রা | আহতের সংখ্যা | লক্ষ্যবস্তু | লক্ষ্যবস্তু পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|---|
| কিয়েভ | -17°C | 2 | জ্বালানি অবকাঠামো | ক্ষতি হয়েছে, নির্দিষ্ট স্থান ধ্বংস |
| খারকিভ | -23°C | 2 | জ্বালানি অবকাঠামো | আংশিক ধ্বংস |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার এই হামলা মূলত শীতকালীন কাঁপুনি ও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। শহরের বিদ্যুৎ ও গরম পানি সরবরাহ ইতিমধ্যেই প্রভাবিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, আগামী আলোচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই ধরনের হামলা রোধ করা সম্ভব নয়। ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
