কারওয়ান বাজারে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মুঠোফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভের ফলে সার্ক ফোয়ারা মোড় এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষ, পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কিছু কাঠ ও বাঁশের টুকরা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য প্রভাব বিস্তার করতে যানবাহন ভাঙচুরও করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং পরিবহন সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ আক্কাছ আলী জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবরোধ করার কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছে।

কারওয়ান বাজারের মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং আমদানির সুযোগ বৃদ্ধির দাবি করে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দিচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যাত্রীদের প্রতিদিনের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন, প্রাইভেট গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে প্রশাসন কতটা সমাধান আনতে পারবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় কারওয়ান বাজারে জনজীবন ও পরিবহন সচল রাখার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।