কামরাঙ্গীরচরে স্কুল ছাত্রকে ছুরিকাঘাত, একজন গ্রেফতার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে এক ভয়াবহ স্কুল-সম্পর্কিত সহিংসতায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে পূর্ব রসুলপুর এলাকার ৭ নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম সাগর (১৯), যিনি একই এলাকায় পড়াশোনা করা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রোমান (১৫) তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাগর হঠাৎ রোমানের দিকে এগিয়ে এসে ‘সিনিয়র মান্য না করা’ এবং অন্য গলিতে আড্ডা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে সাগর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রোমানের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। এছাড়া তার ডান হাত, বাম কবজি ও শরীরের অন্যান্য অংশেও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, গুরুতর আহত রোমান দুই হাত দিয়ে নিজের পেট চেপে ধরলে, সাগর তার পিঠে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। এরপর ঘটনার স্থান থেকে সাগর পালিয়ে যায়। রোমানকে প্রথমে পরিবারের লোকজন কামরাঙ্গীরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে তার পিঠ থেকে ছুরিটি বের করা হয়। ২০ ডিসেম্বর রাতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর রোমানকে মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি গোলাম ফারুক জানান, ভুক্তভোগী রোমানের বাবা জালাল ফকির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাগরকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সাগর কামরাঙ্গীরচরের সান লাইট কিন্ডারগার্ড স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক।

ওসি আরও বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা সকলের প্রতি অনুরোধ করছি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতা বজায় রাখতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামান্য বিষয়ে সহিংসতা, বিশেষ করে স্কুল-সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রাখে। তাই অপরাধ নিরসনে সতর্ক দৃষ্টি ও শিক্ষামূলক প্রচেষ্টা জরুরি।