কাব্যই রক্ষা করে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমর ধারা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আয়োজনকৃত ৩৮তম জাতীয় কাব্যোৎসব সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উৎসবমুখর সমাপনী অনুষ্ঠান দিয়ে শেষ হলো। দুইদিনব্যাপী এ উৎসব কবিতা পাঠ, সেমিনার, সঙ্গীত ও নৃত্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রতি অটল নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় কাব্য পরিষদ আয়োজিত এই বছরের উৎসব শুরু হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি, রোববার, “কাব্যই প্রতিরোধ করবে সংস্কৃতি-বিরোধী শক্তিকে” এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কবিরা শহীদ মিনারের পরিবেশকে শিল্প ও সাংস্কৃতিক উন্মুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন।

সমাপনী দিনের সূচনা হয় যুবসংগীত পরিবেশনা দিয়ে, যা পরিচালনা করেন সুনীল দাস ও তার দল। এরপর, দুপুরের বিরতির আগে তিনটি পর্যায়ে নিবন্ধিত কবিরা তাদের রচনা পাঠ করেন। প্রতিটি সেশনের সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে গোলাম শফিক, মনজুর রহমান ও আবু সইদ খান।

বিরতির পর অনুষ্ঠিত সেমিনার “’৭১ থেকে ’২৪: জনআন্দোলনে কাব্যের ভূমিকা” ভাষা ও কবিতার গভীর সংযোগ তুলে ধরে। মূল বক্তা, গণমাধ্যম ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক সেলিমউল্লাহ খান, বলেন, “কাব্য কেবল ছন্দ নয়; এটি চিন্তা ও অনুভূতির প্রকাশ।” তিনি উচ্চ আদালত, বেসরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষার হ্রাস প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ভাষার সংরক্ষণের জন্য নতুন সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।

সেমিনারের সভাপতিত্বে অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, “কাব্য বর্তমান যুগকে ধারণ করে। কবিরা সমসাময়িক অভিজ্ঞতাকে ছন্দে প্রকাশ করেন, যা কালের আবর্তেও প্রাসঙ্গিক থাকে।” উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং জাতীয় বই কেন্দ্রের কবি-পরিচালক সখাওয়াত টিপু। সেশনটি পরিচালনা করেন জাতীয় কাব্য পরিষদের সভাপতি কবি মহন রায়হান।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে হর্ষিত বালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শেষ কবিতা পাঠে সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি চূড়ান্ত মর্যাদার সাথে সম্পন্ন হয়।

উৎসবের মূল তথ্যাবলী নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

আয়োজকসময়কালস্থানমূল স্লোগানপ্রধান বক্তাসভাপতিমণ্ডলীবিশেষ কর্মসূচি
জাতীয় কাব্য পরিষদ১–২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকাব্যই প্রতিরোধ করবে সংস্কৃতি-বিরোধী শক্তিকেঅধ্যাপক সেলিমউল্লাহ খানঅধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, হর্ষিত বালাকবিতা পাঠ, সেমিনার, সঙ্গীত ও নৃত্য

উৎসবটি কবি ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেছে যে, কাব্যের অমর শক্তি বাংলার ঐতিহ্যকে যে কোনো চ্যালেঞ্জ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।