পশ্চিম কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রিজে এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশ ১৮ বছর বয়সী এক নারীকেই হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঘটনার আগে ওই নারী তার মা ও সৎ ভাইকে হত্যা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।
ঘটনা মঙ্গলবার ঘটে, টাম্বলার রিজের প্রায় ২,৪০০ জন বাসিন্দা এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হামলার পর সন্দেহভাজন জেসি ভ্যান রুটসেলার আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ১০ জন নিহতের খবর দেয়, পরে সংশোধন করে জানায়, হামলাকারীসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন।
টেবিল ১: নিহত ও আহতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| শ্রেণি | বয়স | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| নিহত | ৩৯ | ১ | নারী শিক্ষক |
| নিহত | ১২ | ৩ | ছাত্রী |
| নিহত | ১২ ও ১৩ | ২ | ছাত্র |
| নিহত | ৩৯ ও ১১ | ২ | মা ও সৎ ভাই |
| আহত | ১২–১৩ | ১২ | গুরুতর ও হালকা আহত, ২ জন হাসপাতালে |
পুলিশ জানায়, ভ্যান রুটসেলার প্রথমে নিজ বাড়িতে তার ৩৯ বছর বয়সী মা এবং ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকে হত্যা করেন। তিনি জন্মসূত্রে পুরুষ ছিলেন, তবে ছয় বছর আগে নারী হিসেবে পরিচয় গ্রহণ করেন। এরপর তিনি স্কুলে প্রবেশ করে ৩৯ বছর বয়সী নারী শিক্ষক, তিন ১২ বছর বয়সী ছাত্রী এবং দুই ১২–১৩ বছর বয়সী ছাত্রকে গুলি করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি লম্বা বন্দুক ও পরিবর্তিত হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর প্রথম ফোনকল পাওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সক্রিয় গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হন। পরে তারা ভ্যান রুটসেলারকে আত্মহত্যাজনিত অবস্থায় মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, তিনি একসময় ওই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন, কিন্তু চার বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
ডেপুটি কমিশনার ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস সন্দেহভাজন একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে—এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
বুধবার হাউস অব কমন্সে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড দেশকে স্তম্ভিত ও শোকাহত করেছে।’ টাম্বলার রিজের মেয়র ড্যারিল ক্রাকোওকা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘কারো প্রয়োজন হলে তার কথা শুনুন, কাউকে জড়িয়ে ধরুন।’
পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী মেয়ে মায়া রয়েছে, যাকে তার মাথা ও গলিতে গুলি লেগেছে। তার মা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, মায়ার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
এই হামলা কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক গণহত্যার একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। দেশের বন্দুক আইন কঠোর হলেও লাইসেন্সধারীরা আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারেন। ভ্যান রুটসেলার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিলেন, তবে ২০২৪ সালে তা মেয়াদ শেষ হয়।
বিশ্বব্যাপী নেতারা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লস জানিয়েছেন, তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত’। নিহতদের পরিবার এবং কমিউনিটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।
