কানাডায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (পিজিডব্লিউপি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। এই পারমিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কানাডার যেকোনো প্রদেশে, যেকোনো নিয়োগকারীর অধীনে কাজ করতে পারেন। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। সম্প্রতি কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব সংস্থা (আইআরসিসি) নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনায় পিজিডব্লিউপি পাওয়া আগের তুলনায় আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
পিজিডব্লিউপি মূলত একটি ওপেন ওয়ার্ক পারমিট, যার মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। কানাডার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরাই এ সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে এই পারমিট বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
পিজিডব্লিউপি বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অযোগ্য শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া, পড়াশোনার সময় ফুলটাইম শিক্ষার্থী হিসেবে স্ট্যাটাস বজায় না রাখা, অনুমোদন ছাড়া কাজ করা, কানাডার বাইরে থেকে পড়াশোনা শেষ করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন জমা দেওয়া। এছাড়া অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র জমা দেওয়া, পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকা, সাময়িকভাবে কানাডায় থাকার ইচ্ছা প্রমাণ করতে না পারা এবং চিকিৎসাগত সমস্যা, আর্থিক অক্ষমতা বা অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণেও আবেদন বাতিল হতে পারে।
আইআরসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সময়মতো সম্পূর্ণ আবেদন জমা দিতে হবে এবং সব শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে অনুমোদিত প্রোগ্রামে পড়াশোনা করা হয়েছে কি না, ভাষা দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়েছে কি না এবং পাসপোর্টের মেয়াদ যথেষ্ট আছে কি না—এসব বিষয় আগে থেকেই যাচাই করা জরুরি। সচেতনভাবে নিয়ম মেনে আবেদন করলেই পিজিডব্লিউপি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
টিএসএন
