কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (জন্ম: ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) হলেন কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণকারী একজন বাংলাদেশ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাথে জড়িত। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কুমিল্লা-৩ আসন থেকে একাধিক বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

কায়কোবাদ ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন

কায়কোবাদ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বার এবং ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে, তিনি বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদের তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। এরপর তিনি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন এবং জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালে ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

গ্রেনেড হামলার মামলা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার গ্রেনেড হামলা হয়, যাতে দুটি মামলা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলার নতুন চার্জশীট দাখিল করে। চার্জশীটে ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মামলার রায় হয়। রায়ে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও কায়কোবাদসহ ১৯ জলের যাবজ্জীবন হয়। কায়কোবাদ ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে এবং ২০১৫ সাল থেকে দুবাইয়ে পলাতক রয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন।

 

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। [১] ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment