কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ এবং সুনামগঞ্জ-৫ (দোয়ারাবাজার-ছাতক) আসনের সাবেক সাংসদ। তিনি ১৯৮৮, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।
Table of Contents
কলিম উদ্দিন আহমদ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

রাজনীতিঃ
জনাব মিলন ছাত্রজীবনে বামপন্থী ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ছাতকে কর্নেল অলি আহমদের জনসভায় বিএনপি-তে যোগদান করেন। প্রথমে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে টানা তিন বার সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও একবার আহবায়ক কমিটির ১ম সদস্য(প্যাড সাক্ষর ক্ষমতা সহ), দুইবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে “বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক” নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে আবার “সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি” নির্বাচিত হন।
জনাব মিলন একজন সুবক্তা ও টক-শো রাজনৈতিক আলোচক হিসেবেও পরিচিত। তাকে প্রায়ই চ্যানেল তৃতীয় মাত্রা টক-শো অনুষ্টানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।
মিলন সিলেটের বীরপুরুষ এম ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তাছাড়াও এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন আন্দোলন হয়।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। সুনামগঞ্জ-৫ (দোয়ারাবাজার-ছাতক) আসনে তিনি ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সহযোগিতায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী হিসেবে সর্ব প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মননয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ-জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ