কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিং সংলগ্ন আদর্শ গ্রামে স্থাপিত একটি তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের আগে এলাকায় তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আতঙ্কে আশপাশের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
জানা গেছে, ‘কক্সবাজার ফিলিং স্টেশন’ নামে স্থাপনাটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মালিক নূরুল আলমের মালিকানাধীন এই পাম্পটি স্থাপনের ক্ষেত্রে দমকল বাহিনীর অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল এবং গ্যাসের লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর পাশাপাশি সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যসহ মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে। রাত প্রায় ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গ্যাস ট্যাংকে সঞ্চিত গ্যাস সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনায় অন্তত ১০টি বসতবাড়ি এবং পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত ২০ থেকে ২৫টি জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাটিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিস্ফোরণের সময় | রাত ৯টা |
| দগ্ধের সংখ্যা | ১৬ জন |
| গুরুতর আহত | ১০ জন |
| নিয়ন্ত্রণে সময় | রাত ১টা |
| গ্যাস ট্যাংকের ধারণক্ষমতা | প্রায় ১৪ হাজার লিটার |
| ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি | অন্তত ১০টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন | ২০–২৫টি জিপ |
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছমি উদ্দিন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অনুমতিবিহীনভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে এমন বিপর্যয় আর না ঘটে।
