গত মাসে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মাত্র তিন দিনেই খেলার নিষ্পত্তি হওয়ায় এবং ব্যাটারদের চরম অসহায়ত্ব দেখে পিচের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সাবেক খেলোয়াড়। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আজ ওই পিচটিকে ‘সন্তোষজনক’ (Satisfactory) রেটিং প্রদান করেছে। ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন তাঁর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন জমা দিয়েছেন।
কলকাতা টেস্টের শুরু থেকেই পিচের আচরণে এক ধরণের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই দেখা যায় অসম বাউন্স, যা ব্যাটারদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময় বাড়ার সাথে সাথে উইকেটের ওপরের স্তর আলগা হতে শুরু করে এবং বল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি টার্ন নিতে থাকে। ম্যাচে ভারতের পক্ষে যশপ্রীত বুমরা প্রথম দিনেই ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলেছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেনের পেস এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অফ স্পিনার সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটাররা। ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো ম্যাচে চার ইনিংসের একটিতেও কোনো দল ২০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি।
আইসিসির পিচ রেটিং কাঠামো ও সাম্প্রতিক ম্যাচের তুলনা
আইসিসি মূলত ম্যাচের গুণগত মান এবং উইকেটের আচরণের ওপর ভিত্তি করে চারটি প্রধান ধাপে রেটিং প্রদান করে। নিচে কলকাতা টেস্ট ও সাম্প্রতিক মেলবোর্ন টেস্টের পিচ রেটিংয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| রেটিং স্তর | বর্তমান অবস্থা ও উদাহরণ | ডিমেরিট পয়েন্ট |
| খুব ভালো (Very Good) | আদর্শ টেস্ট উইকেট; ব্যাটার ও বোলার উভয়ের জন্য সমান সুযোগ থাকে। | ০ |
| সন্তোষজনক (Satisfactory) | কলকাতা টেস্ট (ভারত বনাম দ. আফ্রিকা); কিছুটা কঠিন হলেও খেলার যোগ্য। | ০ |
| অসন্তোষজনক (Unsatisfactory) | মেলবোর্ন টেস্ট (অ্যাশেজ); যেখানে পিচ অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। | ১ |
| খেলার অনুপযুক্ত (Unfit) | বিপজ্জনক পিচ; যেখানে খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি থাকে। | ৩ |
কলকাতা টেস্টের পিচ নিয়ে আলোচনার মাত্রা এ সপ্তাহে আরও বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে অ্যাশেজ টেস্ট। সেই ম্যাচটি মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) পিচটিকে আইসিসি ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং দেওয়ার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট প্রদান করেছে। মেলবোর্নের তুলনায় কলকাতার পিচ তিন দিন স্থায়ী হওয়ায় এবং বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো শারীরিক বিপদ না থাকায় ম্যাচ রেফারি একে দ্বিতীয় স্তরের রেটিং দিয়েছেন।
ইডেন গার্ডেন্সের এই হার ভারতের জন্য বড় এক শিক্ষা ছিল। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয় গুয়াহাটিতে, যেখানে পিচ তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক ছিল। কিন্তু সেখানেও দক্ষিণ আফ্রিকার দাপটের সামনে ভারতীয় দল সুবিধা করতে পারেনি এবং ম্যাচটি হেরে যায়। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় প্রোটিয়ারা। আইসিসির এই ‘সন্তোষজনক’ রেটিং কলকাতার কিউরেটরদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, টেস্ট ক্রিকেটের মান বজায় রাখতে পিচের স্থায়িত্ব বাড়ানো নিয়ে ক্রিকেট মহলে বিতর্ক চলতেই থাকবে।
