কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. নজরুল ইসলাম (৫০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে বিপরীতমুখী একটি বাসের সঙ্গে পুলিশের বহনকারী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কর্মনিষ্ঠ এই পুলিশ সদস্যের অকাল মৃত্যুতে জেলা পুলিশ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Table of Contents
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসনের তথ্যমতে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে হোসেনপুর-নান্দাইল সড়কের গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। হোসেনপুর থানার একটি চৌকস দল স্থানীয় ইউনিয়ন থেকে ফিরোজ মিয়া নামক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘জলসিঁড়ি পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস অটোরিকশাটিকে সরাসরি আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্য ও চালক গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
হতাহতদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা
দুর্ঘটনায় কনস্টেবল নজরুল ইসলাম সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া একই দলের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও অটোরিকশাটির চালক আহত হয়েছেন। নিচে আহত ও নিহতের একটি তালিকা প্রদান করা হলো:
টেবিল: দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের তথ্য
| নাম | পদবি/পরিচয় | বর্তমান অবস্থা |
| নজরুল ইসলাম | কনস্টেবল, হোসেনপুর থানা | নিহত (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) |
| মৃদুল হাসান | পিএসআই | চিকিৎসাধীন (আহত) |
| ফজলুর রহমান | এএসআই | চিকিৎসাধীন (আহত) |
| মাহফুজুল হক মৃধা | কনস্টেবল | চিকিৎসাধীন (আহত) |
| ফিরোজ মিয়া | গ্রেপ্তারকৃত আসামি | চিকিৎসাধীন (আহত) |
| নাম জানা যায়নি | সিএনজি অটোরিকশা চালক | আশঙ্কাজনক (চিকিৎসাধীন) |
চিকিৎসার পরিক্রমা
দুর্ঘটনার পর আহতদের প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে কনস্টেবল নজরুল ইসলামের অবস্থা অতি সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় রোববার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত নজরুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমুল গ্রামের মৃত জামাল বাদশাহর সন্তান ছিলেন। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের একটি দল সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফিরছিলেন। ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে, তবে চালক ও বাসটি এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত কনস্টেবলের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্তব্যরত অবস্থায় এমন মৃত্যু আবারও সড়কে বিশৃঙ্খলা এবং রাতের বেলা ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
