কর্ণাটকের সাইবার ক্রাইম শাখা (CID) সম্প্রতি একটি বৃহৎ সাইবার প্রতারণা চক্র উন্মোচন করেছে, যা রাজ্যের ডিজিটাল নিরাপত্তার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র প্রায় ৪০,০০০ মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছিল, যা বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং হামলা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্যামের জন্য পরিচালিত হত।
৬ ফেব্রুয়ারি, CID-এর একাধিক দল রাজ্যের ১০০টিরও বেশি স্থানে সমন্বিত রেইড পরিচালনা করে। অভিযানে চক্রের ১৩ জন প্রধান সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অপরাধীরা নগদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থী, দৈনিক মজুরি শ্রমিক ও বেকার যুবকরা সহ সাধারণ মানুষদের ATM কার্ড, ব্যাংক পাসবুক এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান করতে প্রলুব্ধ করেছিল। পরে এই অ্যাকাউন্টগুলো চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত এবং বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করা হতো।
এক সিনিয়র CID কর্মকর্তা বলেন, “সাইবার প্রতারণার অভিযোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করার পর আমরা মিউল অ্যাকাউন্ট চক্র চিহ্নিত করি। গ্রেফতারকৃত সদস্যরা মূল পরিকল্পনাকারী এবং তাদের মাধ্যমে চুরির অর্থ একাধিক অ্যাকাউন্টে রুট করা হতো।”
CID ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় এই সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করতে শুরু করেছে। এছাড়া গ্রেফতারদের সঙ্গে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিউল অ্যাকাউন্ট চেইন ভাঙা সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিম্নে অভিযান সম্পর্কিত মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | পরিমাণ / বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত প্রধান সদস্য | ১৩ |
| মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট | ৪০,০০০+ |
| সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট (চলমান যাচাই) | ৪২,০০০+ |
| রেইডের স্থান | ১০০+ স্থানে কর্ণাটক |
| লক্ষ্যগ্রুপ | শিক্ষার্থী, দৈনিক মজুরি শ্রমিক, বেকার যুবক |
CID নাগরিকদের সতর্ক করেছে, কাউকে ব্যাংক ডকুমেন্ট বা ATM কার্ড দেবার আগে সতর্ক হতে এবং ছোট কমিশনের জন্যও অ্যাকাউন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এই অভিযান কর্ণাটকের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তদন্ত এখনো চলমান, এবং চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার ও নতুন সন্দেহভাজন চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
