কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ,১৫ আহত

রাজশাহীর পুঠিয়ায় কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ঘটনা ঘটে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া হাটে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেননি।

আহতদের নাম ও বয়সের বিবরণ নিম্নরূপ:

নামবয়সঅবস্থান/চিকিৎসামন্তব্য
আনসার আলী55হাসপাতালে ভর্তিঅভিযোগে মূল ব্যক্তি
সৌমিক হোসেন25প্রাথমিক চিকিৎসাবিএনপি কর্মী
দেলোয়ার হোসেন26প্রাথমিক চিকিৎসাবিএনপি কর্মী
সাব্বির হোসেন15প্রাথমিক চিকিৎসাশিশু আহত
শামীমা খাতুন45হাসপাতালে ভর্তিআনসার আলীর স্ত্রী
বাবু24প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
আনোয়ার26প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
আকরাম হোসেন29প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
আব্দুল হান্নান34প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
বেলাল হোসেন36প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
এমরান আলী45হাসপাতালে ভর্তিগুরুতর আহত
শামীম হোসেন27প্রাথমিক চিকিৎসাআহত ব্যক্তি
রনি ইসলাম47হাসপাতালে ভর্তিগুরুতর আহত

আহত আনসার আলী অভিযোগ করেছেন, জিউপাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরজ আলী এবং তার অনুসারীরা হামলা চালিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ত্রাণ শাখা থেকে ১৮টি কম্বল ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তিনি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে শীতার্ত ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সোমবার দুপুরে স্কুলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।

তবে, অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ড সভাপতি আরজ আলী আগেই কম্বলগুলো নিয়ে নিজভাবে বিতরণ শুরু করেন। পরে আনসার আলী তার অনুসারীদের নিয়ে কম্বল বিতরণ করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগম বলেন, “সরকারি বরাদ্দের কম্বল বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন আমি, তবে আরজ আলী দায়িত্ব নিয়ে বিতরণ করেছেন। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।”

বিএনপি নেতা আরজ আলী বলেছেন, “আমি ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি। আনসার আলী কম্বল না পাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করেছেন।”

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।