বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা থানচিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ষোলো বছর বয়সী এক কিশোর শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলা কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন একটি ছোট সড়কপাশের টায়ার বাতাস ভরার ও মেরামতের কর্মশালায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।
নিহত কিশোরের নাম আবদুল কাদের। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে। জীবিকার সন্ধানে তিনি কয়েক মাস আগে থানচিতে আসেন এবং স্থানীয় এক টায়ার মেরামতের দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় দোকানের মালিক নুরুল আলম উপস্থিত ছিলেন না। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে দেখতে পান, কিশোরটি দোকান থেকে প্রায় একশ গজ দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কর্মশালার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তাঁর মাথা ও বক্ষদেশে মারাত্মক আঘাত লাগে, যা উচ্চচাপজনিত বিস্ফোরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি বায়ুচাপ যন্ত্রের অভ্যন্তরীণ অতিরিক্ত চাপ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যন্ত্রের ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা নিরাপত্তা অবহেলার বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলের বহু ছোট কর্মশালায় উচ্চচাপ বায়ু সঞ্চালনযন্ত্র ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত চাপমাত্রা পরিমাপক, নিরাপত্তা ভালভ ও সংরক্ষণ ট্যাংক পরীক্ষা না করলে এ ধরনের যন্ত্র ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ না করলে বিস্ফোরণের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিম্নে ঘটনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন এলাকা, থানচি, বান্দরবান |
| তারিখ ও সময় | শনিবার, রাত প্রায় ৮টা |
| নিহত | আবদুল কাদের (১৬) |
| স্থায়ী ঠিকানা | কালিয়াইশ ইউনিয়ন, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম |
| পেশা | টায়ার বাতাস ভরার দোকানের সহকারী |
| সম্ভাব্য কারণ | বায়ুচাপ যন্ত্রে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ চাপ |
এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে দোষীদের দায় নিরূপণ ও কঠোর নিরাপত্তা তদারকির দাবি জানিয়েছেন। অল্প বয়সে জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যন্ত্রপরীক্ষা এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
