দেশের খ্যাতনামা রক সংগীতদল ওয়ারফেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান গিটারবাদক ইব্রাহিম আহমেদ কমল সম্প্রতি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর, ভিসা জটিলতা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিনিময়ে কোনো দেশের ভিসা পাওয়া তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়ারফেজের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ২০২৪ সালে আয়োজিত বিশেষ কনসার্ট সফরে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। তবে সেই সফরে কমলের অনুপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। তখন তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কথা বলা হলেও, সম্প্রতি তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে তাঁর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
কমলের বিশ্বাস, ফিলিস্তিনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অবস্থান প্রকাশ করাই এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যে দেশে যাওয়ার জন্য ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখতে পারব না, সেখানে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সংগীতপ্রেমী ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চলতি বছরের গ্রীষ্মে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ারফেজের। তবে কমল জানিয়েছেন, তিনি এই সফরে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর ভাষায়, ভিসা পেলেও সেখানে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ কমে গেছে। তিনি মনে করেন, মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করে কোনো সাফল্য অর্জনের অর্থ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কমলের সম্পর্ক কেবল সংগীতজগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। নব্বইয়ের দশকে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পাড়ি জমান। সে সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি ইতিবাচক স্মৃতির কথা উল্লেখ করলেও একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় তাঁর পরিবার ভেঙে পড়ে এবং মানসিকভাবে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সময় আর সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। সাম্প্রতিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও তাঁর সেই অনীহাকে আরও জোরালো করেছে।
নিচে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| নব্বইয়ের দশক | মিনেসোটায় পড়াশোনার জন্য যাত্রা |
| ১৯৯৭ | সড়ক দুর্ঘটনায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু |
| ১৯৯৮ | যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ |
| ২০২৪ | কনসার্টের জন্য ভিসা আবেদন বাতিল |
| ২০২৬ | পুনরায় সফর পরিকল্পনা, তবে অনিশ্চয়তা |
সবশেষে কমল জানিয়েছেন, তিনি দেশের মাটিতেই থেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে চান। তাঁর মতে, তাঁর সংগীত মূলত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য, এবং বিশ্বজয়ের কোনো আকাঙ্ক্ষা তাঁর নেই। মানবতা, ন্যায় এবং সত্যের প্রতি তাঁর এই অটল অবস্থানই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
