কমলগঞ্জে ইয়াবা চক্রে পুলিশের অভিযান

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে একটি সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সন্ধান মিলেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পুলিশ মনে করছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. আতিকুর রহমান (৪০), পিতা খুরশেদ আলী, দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের বাসিন্দা এবং আহমদ খান (৪০), পিতা আলী বদি খান, কুমড়াকাপন গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহমদ খান পূর্বেও একাধিকবার মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এবং তিনি এলাকায় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ কুমড়াকাপনের বালু মহাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করে মোট ১০৩ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ৪২ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসা ব্যবহার করে ইয়াবা সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি এক ধরনের উত্তেজক মাদক, যা সেবনকারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি সেবনে অনিদ্রা, উদ্বেগ, আচরণগত পরিবর্তন ও সহিংস প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

নিম্নে অভিযানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
অভিযান এলাকাদক্ষিণ কুমড়াকাপন, কমলগঞ্জ পৌর এলাকা, মৌলভীবাজার
অভিযান তারিখ ও সময়২৪ ফেব্রুয়ারি, রাত
আটক ব্যক্তির সংখ্যা২ জন
আটক ব্যক্তিদের নামমো. আতিকুর রহমান (৪০), আহমদ খান (৪০)
উদ্ধারকৃত ইয়াবা১০৩ পিস
উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ৪২,৯০০ টাকা
প্রযোজ্য আইনমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন
অভিযান পরিচালনাকারীকমলগঞ্জ থানা পুলিশ

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু গ্রেফতারই নয়, বরং সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া এবং তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কমলগঞ্জকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগ সামগ্রিকভাবে এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।