কদমতলীতে ভাঙারি ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন হত্যা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর কদমতলীতে প্রকাশ্য দিবালোকে লোহার ভাঙারি ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) কদমতলী এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-১০ এর একটি দল তাদের আইনের আওতায় আনে। প্রাথমিক তদন্তে র‍্যাব নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণ ও পলায়নের কৌশল

গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে কদমতলী থানাধীন আদর্শ সড়ক এলাকায় সাহাবুদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। র‍্যাবের ভাষ্যমতে, আসামি মো. শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। নৃশংসতা এখানেই শেষ হয়নি; হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর এলাকা থেকে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সন্ত্রাসীরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেলের শব্দ ও ধোঁয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সেই সুযোগে খুনিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয়রা সাহাবুদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ড ও আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য নিচে সারণি আকারে দেওয়া হলো:

সাহাবুদ্দিন হত্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত তথ্য
নিহতের নামসাহাবুদ্দিন (লোহার ভাঙারি ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী)।
হত্যাকাণ্ডের সময়মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (রাত্রিকালীন)।
ঘটনাস্থলআদর্শ সড়ক, কদমতলী, ঢাকা।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিমো. শহিদুল ও নার্গিস বেগম।
প্রাথমিক মোটিভব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড।
ব্যবহৃত অস্ত্রধারালো অস্ত্র এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে ককটেল।
আইনি প্রক্রিয়ানিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার।

র‍্যাবের তদন্ত ও আসামিদের অবস্থান

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে র‍্যাব-১০ দ্রুত ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে যে, মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শহিদুল এবং তাঁর অন্যতম সহযোগী নার্গিস বেগম কদমতলী এলাকাতেই আত্মগোপন করে আছেন। বুধবার বিকেলে এক ঝটিকা অভিযানে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা মূলত সাহাবুদ্দিনের ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক প্রভাব এবং পুরোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ও নার্গিস বেগমকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কদমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে।