কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক কৃষক ও তার গরুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আচমিতা ইউনিয়ন জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র এবং কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার মূল কারণ ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারানো।
নিহত কৃষকের নাম ইমন মিয়া (২৬)। তিনি আচমিতা ইউনিয়নের চাড়িপাড়া এলাকার খালেক মিয়ার ছেলে। পেশায় একজন কৃষক ছিলেন ইমন। স্থানীয়রা জানান, তিনি তার গরু খাওয়ানোর জন্য সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কটিয়াদী থেকে আচমিতা বাজারের দিকে যাওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা আচমিতার দিকে আসছিল। সড়কের উঁচু অংশে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো সিগন্যাল ছাড়াই সাইড পরিবর্তন করার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারায়। ট্রাকটি গরুকে চাপা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমন মিয়া ও তার গরুর মৃত্যু হয়।
কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ খোরশেদ আলম দৈনিক কালের কণ্ঠকে জানান, “ট্রাকের ধাক্কায় গরুসহ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। উল্টে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করা হচ্ছে। ঘটনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে।”
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| ক্রমিক | বিষয় | তথ্য |
|---|---|---|
| ১ | দুর্ঘটনার স্থান | আচমিতা ইউনিয়ন, জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন, কটিয়াদী উপজেলা |
| ২ | দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৬ মার্চ, সোমবার, সকাল ১১টা |
| ৩ | নিহত ব্যক্তির নাম | ইমন মিয়া (২৬) |
| ৪ | পিতার নাম | খালেক মিয়া |
| ৫ | পেশা | কৃষক |
| ৬ | দুর্ঘটনার কারণ | ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, অপ্রত্যাশিত সাইড পরিবর্তন |
| ৭ | অন্যান্য প্রাণী | গরু (নিহত) |
| ৮ | দায়িত্বরত পুলিশ | কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ, ইনচার্জ খোরশেদ আলম |
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা মূলত সড়কের খারাপ অবস্থা, সঠিক সিগন্যালের অভাব এবং যানবাহন চালকদের অসাবধানতার কারণে ঘটে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ জানায়, তারা নিয়মিতভাবে সড়ক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, কটিয়াদী উপজেলার আঞ্চলিক সড়কে প্রতিনিয়ত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতির ট্রাক এবং অপ্রত্যাশিত গাড়ি চালনার কারণে এই ধরনের দূর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সতর্ক চালনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহত কৃষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
