পূর্ব ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে সন্দেহভাজন এডিএফ বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে মাম্বাসা অঞ্চলের মুচাচা এবং বাবেসুয়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
হামলার বিবরণ
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
- মুচাচা খনি এলাকায় নিহত বেসামরিক ব্যক্তি: ৩৫ জন
- বাবেসুয়া এলাকায় নিহত বেসামরিক ব্যক্তি: ১৫ জন
এই হামলায় কেবল মানুষ হত্যা নয়, বরং ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগও সংঘটিত হয়েছে। বিদ্রোহীরা অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে।
বাস্তুচ্যুত পরিবার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের কারণে ৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সংলগ্ন অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন পরিবার বাধ্য হয়ে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে। ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সরকারি বাহিনী যৌথ অভিযান চালালেও এডিএফ বিদ্রোহীদের দমন এখনও অসম্পূর্ণ।
| এলাকা | নিহত বেসামরিক | ঘরবাড়ি ধ্বংস | বাস্তুচ্যুত পরিবার |
|---|---|---|---|
| মুচাচা | ৩৫ | বহু | ২০+ |
| বাবেসুয়া | ১৫ | কিছু | ১৫+ |
খনি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে ক্রমাগত হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দফতর (ওসিএইচএ) ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে ইতুরি প্রদেশে বাড়তে থাকা সহিংসতার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং মানবিক সহায়তার সীমিততা ক্রমেই পরিস্থিতি জটিল করছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং দ্রুত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। তারা সতর্ক করেছে, যদি বিদ্রোহীদের হামলা রোধ না করা হয়, তাহলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে।
কঙ্গো সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে খনি অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহী দৌরাত্ম্য রোধে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কঙ্গো সরকারের প্রতি তৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
এই নৃশংস হামলার প্রেক্ষিতে পূর্ব কঙ্গোতে মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
