বলিউড তারকা কঙ্গনা রানাউত আবারও আলোচনায়। তবে এবার তর্কের কেন্দ্রবিন্দু তাঁর অভিনয় নয়, বরং ভারতের সামাজিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর সোজাসাপটা মন্তব্য। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান—ভারতের বহু পরিবার বাইরে থেকে আধুনিকতা প্রদর্শন করলেও ভেতরে ভেতরে ছেলেসন্তানকেই অগ্রাধিকার দেয়।
কঙ্গনার বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি সংবেদনশীল বাস্তবতা। তিনি বলেন, “এশিয়ার প্রায় সব সমাজেই সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে একধরনের লুকানো প্রত্যাশা থাকে। প্রথম সন্তান মেয়ে হলে দ্বিতীয়বার মেয়েই জন্মালে অনেক পরিবারের ভেতরে অস্বস্তি দেখা দেয়। তারা বাইরে থেকে বলতে পারেন—’ছেলে-মেয়ে সমান’, কিন্তু ভেতরের চিন্তাধারা তা সবসময় মানে না।”
এই প্রসঙ্গে তিনি বলিউডের উদাহরণও টেনে আনেন। তাঁর দাবি—চলচ্চিত্রজগতের অনেক পরিবারই নিজেদের প্রগতিশীল বলতে পছন্দ করে, কিন্তু সন্তানের ক্ষেত্রে তারা একই মানদণ্ড অনুসরণ করে না।
কঙ্গনার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে তাঁকে সমর্থন করে বলছেন, এটি সমাজের দীর্ঘদিনের চর্চা, যা আজও পরিবর্তিত হয়নি। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এমন মানসিকতা শুধুই গ্রামাঞ্চলের সমস্যা নয়। বড় শহর, শিক্ষিত মানুষ, স্বচ্ছল পরিবার—সব জায়গাতেই ছেলেসন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।”
অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, কঙ্গনা ইচ্ছাকৃতভাবে বিনোদন জগৎকে লক্ষ্য করে বিতর্ক তৈরি করছেন। বলিউডের সঙ্গে সরাসরি বিষয়টিকে যুক্ত করায় অনেকেরই আপত্তি।
তবে সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, কঙ্গনার বক্তব্য ব্যক্তিগত মত হলেও তা বিস্তৃত এক সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ভারতের মতো দেশে এখনও লিঙ্গবৈষম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, যার শেকড় রয়েছে বহু বছরের সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধে।
কঙ্গনার মন্তব্য সেই পুরোনো সমস্যা ঘিরেই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে—আর সেই বিতর্ক সমাজকে আরও একবার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখার সুযোগ দিচ্ছে।
