কক্সবাজারে নকল মদ কারখানা উন্মোচন

কক্সবাজার শহরে বিদেশি ব্র্যান্ডের নকল মদ উৎপাদনের একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল মদ, উৎপাদন সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মোহন সেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি দল পৌরসভার পশ্চিম নতুন বাহারছড়া এলাকার একটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান নকল মদ উৎপাদন কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখান থেকেই মোহন সেনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার মোহন সেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং কার্তিক সেনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডের অনুকরণে মদ তৈরি ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১০ বোতল ভরা নকল বিদেশি মদ, যার পরিমাণ প্রায় ৫৫ লিটার। এছাড়া ৭৬টি খালি বিদেশি মদের বোতল, একটি ক্যাপ সিলিং মেশিন, একটি সিলার মেশিন এবং একটি হিট গান জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে বোতলজাত করে বিদেশি ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া পাঁচটি জেরিক্যানে ১৬ দশমিক ৫ লিটার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায়, যা মদ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নকল লেবেল, সিকিউরিটি স্টিকার ও অন্যান্য উপকরণও উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত তালিকা

সামগ্রীর নামপরিমাণ
নকল বিদেশি মদ১১০ বোতল (প্রায় ৫৫ লিটার)
খালি মদের বোতল৭৬টি
রাসায়নিক পদার্থ১৬.৫ লিটার (৫ জেরিক্যানে)
ক্যাপ সিলিং মেশিন১টি
সিলার মেশিন১টি
হিট গান১টি
কর্ক৭২৫টি
নকল স্টিকার৭৮০টি
বারকোড স্টিকার৮ ফর্দ
কর্ক সিকিউরিটি সিল পেপার৫৫০টি
নগদ অর্থ২৮,০০০ টাকা

পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের নকল পণ্য উৎপাদন শুধু অবৈধ নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব রাসায়নিক পদার্থ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিশিয়ে মদ তৈরি করা হলে তা মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, লিভার এবং স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, মাদক ও অবৈধ মদ উৎপাদনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এমন গোপন কারখানা শনাক্ত ও ধ্বংসে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে, যাতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা যায়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।