ককটেল হামলা ও যানবাহনে আগুনে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায়ের প্রেক্ষাপটে রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেট, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও ঢাকার সাভারে সাতটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহে আগুনে এক চালক নিহত হয়েছেন।

রাজধানীতে ককটেল হামলার ঘটনা আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সেন্ট্রাল রোডে, বাংলামোটর, শ্যামপুর, গাবতলী ও মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক উস্কানিমূলক উদ্দেশ্যে মূলত জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার ভোরে মাদারীপুরে গাছ কেটে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় মিটে যায়। এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য লক্ষ্য করা যায়।

গত এক সপ্তাহে দেশে মোট ৩৬টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রায়ের দিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন নাশকতা চালাতে পারে বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রোববার ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং গত আট দিনে ১৯৭ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নাশকতা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সংগঠিত। ডিএমপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত।