ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এক নারীকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের একটি নির্বাচনী সমাবেশে শরীফ ওসমান হাদির বোন পরিচয় দিয়ে বক্তব্য রাখা এক নারীকে নিয়ে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শবনম খাদিজা নামের ওই নারী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে শহীদ ওসমান হাদির পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই নারীর সঙ্গে তাঁদের কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সমাবেশের বিবরণ
গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনাকীর্ণ সেই মঞ্চে শবনম খাদিজা নামক এক নারী মাইক্রোফোন হাতে নেন এবং নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন হিসেবে পরিচয় দেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে নাহিদ ইসলামের জন্য ভোট চান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে তা বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
পরিবারের তীব্র প্রতিবাদ ও ফেসবুক পোস্ট
সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। রাবেয়া ইসলাম জানান, ওই নারী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে ওসমান হাদির বোন পরিচয় দিয়েছেন।
শম্পা তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, শহীদ ওসমান হাদি তাঁর জীবদ্দশায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি সাধারণ ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলো যাতে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ওসমান হাদির পবিত্র স্মৃতি বা নাম ব্যবহার না করে, সেজন্য তিনি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানান। তবে তাঁর শাহাদাতের আদর্শ ও বিপ্লবকে কেউ যদি ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে অনুসরণ করতে চায়, তাতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রতিক্রিয়া:
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | পরিচয়/ভূমিকা | দাবির সত্যতা ও প্রতিক্রিয়া |
| শবনম খাদিজা | বক্তা (সমাবেশ) | নিজেকে ওসমান হাদির বোন দাবি করেন; যা পরিবার প্রত্যাখ্যান করেছে। |
| রাবেয়া ইসলাম শম্পা | ওসমান হাদির স্ত্রী | নারীকে ‘ভুয়া’ দাবি করেছেন এবং রাজনৈতিক ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। |
| আবদুল্লাহ আল জাবের | সদস্য সচিব, ইনকিলাব মঞ্চ | পরিবারের বরাতে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই নারী ওসমান হাদির বোন নন। |
| নাহিদ ইসলাম | পদপ্রার্থী | তাঁর পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। |
| ডা. শফিকুর রহমান | আমির, জামায়াতে ইসলামী | সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন। |
ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান
বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হলে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাবেয়া ইসলাম শম্পার পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ওসমান হাদির পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তি তাঁর তিন বোনের কেউ নন। জাবেরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে শহীদ পরিবারের আবেগ ব্যবহার করে ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা এক ধরনের নৈতিক স্খলন।
উপসংহার ও বর্তমান পরিস্থিতি
শবনম খাদিজা নামের ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় কী কিংবা কার প্ররোচনায় তিনি এই পরিচয় দিয়ে মঞ্চে আরোহণ করেছিলেন, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামী বা ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। তবে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিবাদের পর নির্বাচনী ময়দানে এটি একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
