ওয়েভ ফেস্ট’-এ মাতাতে আবার ঢাকায় এসেছে কাবিশ—শিল্পী বিনিময়ে সঙ্গীতচর্চায় নতুন উপলব্ধি

ঢাকার সঙ্গীতাঙ্গনে আবারও হাজির পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যান্ড কাবিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে তারা ঢাকায় নেমেছেন—এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশন।
ব্যান্ডটির ছবি পোস্ট করে তারা জানায়, “Wave Fest Season 1 অংশ নিতে কাবিশ নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছেছে।”

কাবিশের আগমন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কাবিশ মূলত পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় সেমি-ক্ল্যাসিক্যাল ব্যান্ড, যাদের গান ভারত, বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই সমান জনপ্রিয়। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে যে ধারায় নজরুল, গুরুদাস মান্নাদের মতো শিল্পীরা সেমি-ক্ল্যাসিক্যাল গানকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তুলে ধরেছিলেন—কাবিশ সেটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ‘সফট রক + ক্ল্যাসিকাল ফিউশন’-এর মাধ্যমে।

১৯৯৮ সালে জাফর জাইদি ও মাজ মওদুদ ব্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দ্রুতই তারা পাকিস্তানে ‘নতুন ধারার কাব্যিক সঙ্গীত’-এর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পান।

আগামীকাল কনসার্ট—যা থাকছে আয়োজনে

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার মাদানি অ্যাভিনিউয়ের কোর্টসাইডে ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দ্য উইন্টার’ অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৫টায় পারফরম্যান্স শুরু হয়ে চলবে রাত ১০:৩০ পর্যন্ত।
দর্শকরা বিকেল ৩টা থেকেই ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবেন।

বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন, মেঘদল, পাশাপাশি আরও কয়েকজন একক শিল্পী অংশ নেবেন।
যেহেতু কাবিশ আগেও ঢাকায় এসে শ্রোতাদের আবেগ স্পর্শ করেছে—তাই এবারও হওয়া কনসার্ট শ্রোতাদের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলে আয়োজকদের আশা।

সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততা—ব্যান্ড সংগীতের সীমানা ছাড়ানোর গল্প

দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব সত্ত্বেও ব্যান্ড সংগীত সবসময়ই সীমান্ত ভেদ করে মানুষকে যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ব্যান্ডসংগীতের একটি বড় মিল—দু’দেশেই ব্যান্ডসংগীতের রয়েছে শক্তিশালী শ্রোতা-ভিত্তি।
‘জুনুন’, ‘স্ট্রিংস’, ‘আতিফ আসলাম’ থেকে শুরু করে এখন কাবিশ—বাংলাদেশি শ্রোতারা নিয়মিতই পাকিস্তানি সঙ্গীত উপভোগ করছেন।

তরুণ সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এ ধরনের কনসার্ট শুধু আনন্দ নয়, বরং শিল্পীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দেয়।

উপসংহার

কাবিশের ফিরে আসা ঢাকার ব্যান্ডসংগীতপ্রেমীদের জন্য নতুন উত্তেজনা। শীতের সন্ধ্যায় বড় আয়োজন, দেশি-বিদেশি ব্যান্ড, আর সঙ্গীতের মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে ‘ওয়েভ ফেস্ট’ হয়ে উঠতে পারে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।