ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার অবনতি, লাইফ সাপোর্টে কলকাতায়

জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুবই সংকটজনক। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগ এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। কলকাতার নিউ টাউনের নিজের বাড়িতেই তিনি অক্সিজেন সহায়তায় ছিলেন, কিন্তু গত ২ জানুয়ারি আচমকাই তার স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থার নাটকীয়ভাবে অবনতি ঘটে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে দ্রুত কলকাতার বাইপাস এলাকায় অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

২০২৪ সালের জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছিলেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাস তিনি বাসা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সময়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। অবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পরই ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, যখন পরিস্থিতি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপযোগী হবে।

ওবায়দুল কাদেরের জীবনবৃত্তান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

বিষয়বিস্তারিত
পদবিআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
বর্তমান অবস্থানকলকাতা, ভারত
হাসপাতালে ভর্তিঅ্যাপোলো হাসপাতাল, ভেন্টিলেশনে
শারীরিক অসুস্থতাবার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, শয্যাশায়ী
রাজনৈতিক দায়িত্বকাল২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে বর্তমান পর্যন্ত
মন্ত্রণালয় দায়িত্বসড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, ২০১১-২০২৪
পালিয়ে যাওয়ার সময়নভেম্বর ২০২৪
শারীরিক অবস্থাসংকটজনক, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন

বিশ্লেষকদের মতে, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তার শারীরিক অবস্থার খবর শোনা মাত্রই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য, ভারতের কলকাতায় তার ভর্তির বিষয়টি দুই দেশের রাজনীতিতে নানা জল্পনা সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত জটিল রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা তাকে বিপদের মুখে ফেলেছে, তাই প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ ও উন্নত চিকিৎসা অপরিহার্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে সরকারের পদক্ষেপ, দলের কার্যক্রম এবং জনগণের মনোভাবের দিকেও নজর রাখতে হবে।

বর্তমানে হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, তিনি ভেন্টিলেশনে থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা স্থিতিশীল, তবে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ জনগণ তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।