দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার দেশে ঘূর্ণিঝড়, ভারী বর্ষণ, বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় মৃত্যু সংখা এক হাজার ১৪০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ রবিবার সন্ধ্যা থেকে কিছুটা কমেছে। তবুও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান, এবং বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলো ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা। উভয় দেশে সেনাবাহিনী উদ্ধার ও সহায়তার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ৬০৪ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি নিখোঁজ। তবে সরকার এখনও জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি। শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। উদ্ধারকাজে দেশটি হেলিকপ্টার ও জাহাজ ব্যবহার করছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বলেন, “আশা করা যায় খারাপ সময় কেটে গেছে।”
শ্রীলঙ্কায় ‘ডিটওয়া’ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৩৬৬ জন নিহত। রাজধানী কলম্বোর বন্যার পানি রবিবার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। আজ সকালে পানি কমতে শুরু করেছে এবং কিছু দোকান ও অফিস খোলা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি, কিন্তু আমরা আগের চেয়ে ভালো একটি জাতি গড়ব।”
থাইল্যান্ডে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যায় অন্তত ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন। নাগরিকরা সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যেই দুজন স্থানীয় কর্মকর্তা দায়িত্বে ব্যর্থতার কারণে বরখাস্ত হয়েছেন।
মালয়েশিয়ার পার্লিস রাজ্যে ভারী বর্ষণের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং তিনজন মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের দুর্যোগ প্রমাণ করে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় অবকাঠামো ও জরুরি প্রস্তুতির প্রয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের সুলাওয়েসি ভূমিকম্প ও সুনামির পর বর্তমান দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। শ্রীলঙ্কার ক্ষয়ক্ষতি ২০০৪ সালের সুনামির পর সর্বাধিক, যেখানে সেই সময়ে ৩১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছিল।
এ দুর্যোগ প্রমাণ করে, ত্রাণ কার্যক্রম, স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে উদ্ধারকাজ জোরদার হচ্ছে, যাতে আরও মানুষের জীবন বাঁচানো যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন শুরু করা যায়।
