এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়নি, রোববার লন্ডনে যেতে পারেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) থাকলেও তা কিছুটা পিছিয়ে গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত থাকলে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে তিনি আগামী রবিবার (৭ ডিসেম্বর) লন্ডনের পথে রওনা হতে পারেন।

বিএনপি মিডিয়া সেল শুক্রবার সকাল ১০টায় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স কারিগরি ত্রুটির কারণে এখনও দেশে পৌঁছায়নি, ফলে লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কারিগরি সমস্যার কারণে আজ শুক্রবার অ্যাম্বুল্যান্স আসতে পারেনি। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি শনিবার দেশে পৌঁছাবে। যদি ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা যাত্রার উপযোগী থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দেন, ইনশা আল্লাহ ৭ তারিখ তিনি লন্ডনে যাবেন।”

খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি

বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং তার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত জানুয়ারিতে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং সেখানে হাসপাতাল ও তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসা গ্রহণের পর ৬ মে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে ঢাকায় এসেছেন।

নিচের টেবিলে এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
রোগীর নামবেগম খালেদা জিয়া
চিকিৎসা অবস্থানএভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
বিদেশে নেওয়ার উদ্দেশ্যউন্নত চিকিৎসা
আসল যাত্রার তারিখ৫ ডিসেম্বর (বিলম্বিত)
সম্ভাব্য নতুন যাত্রার তারিখ৭ ডিসেম্বর, রোববার
যন্ত্রপাতিকাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (ভাসমান হাসপাতাল, আইসিইউ সহ)
যাত্রা বিলম্বের কারণএয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কারিগরি ত্রুটি
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/প্রতিনিধিমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি মহাসচিব; জোবাইদা রহমান, পরিবারের প্রতিনিধি

বিএনপি নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণে সম্পূর্ণ সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন। সরকার এবং দলের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে, যাতে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক নজর কাড়ছে, কারণ এটি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পর্শ করছে।