এম এম আমিন উদ্দিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

এম এম আমিন উদ্দিন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির রাজনীতিবিদ ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সাবেক সাংসদ। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এম এম আমিন উদ্দিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

এম এম আমিন উদ্দিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

এম এম আমীন উদ্দিন ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ার ধোপাদীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মোসাব উদ্দিন মোল্যা। তিনি দৌলৎপুর বজলাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং শরীরচর্চা প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে বিপিএড পাশ করেন। তিন পুত্র ও তিন কন্যার জনক তিনি।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

এম এম আমীন উদ্দিন একটি মাধ্যমিক স্কুলে তিনি ৯ বছর শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। টানা ২০ বছর নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নিরক্ষরতা দূরীকরণে অবদান রাখায় ১৯৮১ সালে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

ছাত্রজীবনে ১৯৫৭ সালে তিনি অভয়নগর থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি যশোরজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও অভয়নগর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৭২ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। ১৯৮৯ সালে যোগে দেন জাতীয় পার্টিতে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি লাঙল প্রথীক নিয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

জাতীয় পার্টি বিভক্ত হয়ে পড়লে তিনি যোগ দেন নাজিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিতে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রথীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

সংসদ সদস্য:

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

এম এম আমিন উদ্দিন | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment