এমবাপ্পে: নেইমার ছাড়া বিশ্বকাপ অসম্ভব

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরো জিলেট স্টেডিয়ামে আজ রাতে একটি উচ্চ প্রত্যাশিত প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচের আগে, ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম সাক্ষাৎকারে নেইমারের প্রশংসা ও বিশ্বকাপের ভাবনা শেয়ার করেছেন।

সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান ক্ষমতা কার হাতে বেশি—রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের, নাকি পিএসজির সাবেক সতীর্থ নেইমারের? এমবাপ্পে হেসে উত্তর দেন, “কী প্রশ্ন! দুজনেরই। জাতীয় দলে ভিনিকে আরও এক ধাপ এগোতে হবে। আর নেইমার তো নেইমারই, অসাধারণ খেলোয়াড়।”

এমবাপ্পের এবং নেইমারের সম্পর্ক জটিল হলেও পিএসজিতে ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা একে অপরের সতীর্থ ছিলেন। সেই সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য এবং মতবিরোধের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এমবাপ্পে এবারে নেইমারের প্রশংসা করতে ছাড়েননি এবং বললেন, তিনি নেইমারকে বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত দেখতে চান।

এমবাপ্পে বলেন, “বিশ্বকাপ তারকাদের প্রতিযোগিতা। নেইমার আমার চোখে অন্যতম বড় তারকা। নেইমারকে ছাড়া আমি বিশ্বকাপ ভাবতেই পারি না। তবে শেষ পর্যন্ত কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “নেইমার আমার সঙ্গে খেলেছে, অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমি জানি, সে প্রস্তুত হয়ে বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকবে।”

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেইমারকে ডাকেননি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ক্রমাগত চোটের কারণে নেইমার জাতীয় দলে খেলেননি। আগামী ১১ জুন শুরু হওয়া বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচে নেইমারের উপস্থিতি অনিশ্চিত।

ফ্রান্স ও ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:

দলফিফা র‍্যাঙ্কিংবিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যাসাম্প্রতিক সাফল্য
ফ্রান্সব্রাজিলকে ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬ সালে হারানো
ব্রাজিলসর্বদা শীর্ষস্থানীয় দল, বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী

এমবাপ্পে ব্রাজিলকে ফুটবলের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “জার্সিতে পাঁচ তারকা থাকা দলের বিপক্ষে কখনও ফেবারিট হতে পারি না। ম্যাচ আমাদের জন্য নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ। আমরা কী করতে পারি এবং বিশ্বকাপ জয়ের প্রস্তুতি নিতে পারব।”

ভিনিসিয়ুস জুনিয়ুসও আগে বলেছিলেন, ফ্রান্স-ব্রাজিল ম্যাচ প্রীতি ম্যাচ নয়। এমবাপ্পে এই মতের সাথে একমত হয়েছেন। ম্যাচ শেষে দলগুলো একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবে, তবে মাঠের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে।

এমবাপ্পে তার ক্যারিয়ারে দুজন প্রধান কোচকে পেয়েছেন—দেশম ফ্রান্সে এবং আনচেলত্তি রিয়ালে। তিনি বলেছেন, “তাদের ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল দর্শন শিখতে পেরে আমার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ হয়েছে। দেশমকে পাওয়া গর্বের, আর আনচেলত্তির অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।”

ম্যাচটি শুধুমাত্র দুটি বিশ্বশীর্ষ দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা হিসাবেও দেখা হচ্ছে।