এশিয়ার শীর্ষ বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠান এমএসআইজি এশিয়া সম্প্রতি প্রযুক্তি সংস্থা পিক থ্রি-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য কোম্পানির ডিজিটাল বীমা প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। এই সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল কৌশল দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে উপস্থিতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
সিঙ্গাপুর থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমএসআইজি এশিয়া জানায়, তারা পিক থ্রি-এর “গ্রাফিন” কোর ইন্স্যুরেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রয়োগ করবে। এই প্ল্যাটফর্মটি অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, পরিচালনাকে সহজতর করা এবং ডাইরেক্ট-টু-কনজিউমার (D2C) চ্যানেল ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে ডিজাইন করা হয়েছে।
গ্রাফিন সিস্টেমটি উচ্চপরিমাণ লেনদেন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সক্ষম এবং বিভিন্ন বাজারে নতুন পণ্য দ্রুত ও সুনির্দিষ্টভাবে চালু করার সুযোগ দেয়। এমএসআইজি এশিয়া এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী মডুলার, অন-ডিমান্ড বীমা সেবা প্রদান করবে, যা গ্রাহকের বিদ্যমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
এক এমএসআইজি এশিয়ার মুখপাত্র বলেন:
“ডিজিটাল উদ্ভাবন আমাদের বৃদ্ধির কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। পিক থ্রি-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব আমাদের গ্রাহক-কেন্দ্রিক, দ্রুত অভিযোজনযোগ্য বীমা সমাধান প্রদান করতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে বিধিমালা অনুসরণের নিশ্চয়তা দেবে।”
গ্রাফিনের মডুলার নকশা গ্রাহকভিত্তিক কাস্টম পলিসি তৈরি করা সম্ভব করে, যা বাস্তব-সময়ের সমন্বয়যোগ্য। এটি এমএসআইজি এশিয়াকে এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বীমা খাতে প্রতিযোগিতামূলক রাখে।
শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্মার্টফোনের বিস্তার এবং অনলাইন আর্থিক সেবার প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার ইনশিওটেক (InsurTech) বাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রাফিন প্ল্যাটফর্মের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ | সুবিধা |
|---|---|---|
| উচ্চ-পরিমাণ লেনদেন | বৃহৎ পরিমাণ লেনদেন সহজে পরিচালনা করতে সক্ষম | একাধিক বাজারে স্কেলেবল অপারেশন |
| দ্রুত পণ্য চালু করা | নতুন পণ্য দ্রুত বাজারে আনা যায় | সময় সাশ্রয় এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা |
| মডুলার নকশা | গ্রাহক অনুযায়ী কাস্টম পলিসি তৈরি করা সম্ভব | ডিজিটাল গ্রাহকের জন্য ব্যক্তিগতকৃত কভারেজ |
| সীমান্ত-পার বিভ্রান্তি কম | বিভিন্ন দেশে অপারেশন মানসম্মত করে | কার্যকর পরিচালনা ও বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত |
| অংশীদার সংযোগ | ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহজ সংযোগ | D2C ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহক বিস্তার |
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এমএসআইজি এশিয়া আঞ্চলিক ডিজিটাল বীমা উদ্ভাবনের অগ্রভাগে অবস্থান করছে। কোম্পানির প্রত্যাশা, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ গ্রাফিন সিস্টেম মূল বাজারগুলোতে সম্পূর্ণ কার্যকর হবে, যা আরও সংযুক্ত, প্রতিক্রিয়াশীল এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক বীমা সেবা নিশ্চিত করবে।
এভাবে, এমএসআইজি এশিয়া ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে এশিয়ার বীমা খাতে নতুন দিগন্ত খুলছে।
