সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি চলতি সপ্তাহে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে। জ্যোতির্বিদ ও আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সুযোগ। রাতের আকাশে খালি চোখেই গ্রহটির উজ্জ্বল উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করা যাবে। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতি জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডলের দুটি উজ্জ্বল তারা ‘ক্যাস্টর’ ও ‘পোলাক্স’-এর সঙ্গে আকাশে প্রায় অসম ত্রিভুজ গঠন করবে। সূর্যের আলো বৃহস্পতির মেঘাচ্ছন্ন পৃষ্ঠে প্রচুর পরিমাণে প্রতিফলিত হওয়ায়, যদিও এটি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তা থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিকে খুব উজ্জ্বল দেখায়। বৃহস্পতির ব্যাস প্রায় পৃথিবীর ১১ গুণ, যা এটিকে সৌরজগতের সবচেয়ে বিশাল গ্রহ হিসেবে পরিচিত।
এই সময়ে বৃহস্পতি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে, যা প্রায় ৬৩৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। সূর্যের আলো বৃহস্পতিতে পৌঁছতে প্রায় ৪৩ মিনিট সময় নেয়, আর বৃহস্পতির প্রতিফলিত আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৩৫ মিনিট।
বৃহস্পতিকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় গোলার্ধে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বিশেষ করে ৯ জানুয়ারি রাতের আকাশে পূর্ব দিকে তাকালে খালি চোখেই বৃহস্পতির উজ্জ্বলতা দেখা সম্ভব। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে বৃহস্পতির চারটি বৃহত্তম উপগ্রহ—আইও, ইউরোপা, গানিমেড এবং ক্যালিস্টো—ও সহজে দেখা যাবে।
তাছাড়া, ১০ গুণ বা তার বেশি ক্ষমতার ছোট বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে বৃহস্পতির মেঘাচ্ছন্ন পৃষ্ঠের গঠন ও গ্যাসীয় ঝাপসা মেঘের বিস্তারিত অবলোকন করা সম্ভব হবে।
নিচের টেবিলে বৃহস্পতির এই বিশেষ অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রহের নাম | বৃহস্পতি (Jupiter) |
| ব্যাস | ≈ 142,984 কিমি (পৃথিবীর ১১ গুণ) |
| পৃথিবীর দূরত্ব | ≈ 633 মিলিয়ন কিমি |
| আলো পৌঁছার সময় (সূর্য→বৃহস্পতি) | ≈ 43 মিনিট |
| আলো পৌঁছার সময় (বৃহস্পতি→পৃথিবী) | ≈ 35 মিনিট |
| উপগ্রহ দেখার সম্ভাবনা | খালি চোখে চারটি বৃহত্তম উপগ্রহ দেখা যাবে |
| পর্যবেক্ষণযোগ্য সময় | ৯–১৫ জানুয়ারি, পূর্ব আকাশে |
জ্যোতির্বিদদের মতে, এই ধরনের গ্রহের নিকটবর্তী অবস্থান প্রতি কয়েক বছর পর পরই ঘটে, তাই এটি আকাশপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ও দুর্লভ অভিজ্ঞতা।
