কুখ্যাত যৌ/ন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন এবং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাঝে একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালের আগে, অর্থাৎ এপস্টিন প্রথমবারের মতো অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তিনি এ সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এফবিআই নথিতে উঠে এসেছে, ২০০৬ সালে ফ্লোরিডার সাবেক পাম বিচ পুলিশপ্রধান মাইকেল রাইটার ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোনকল পেয়েছিলেন। ওই ফোনকলের সময় ট্রাম্প বলেন, “সবাই জানে, এপস্টিন দীর্ঘদিন ধরে মন্দ কাজ করছে। ভালো হয়েছে যে আপনারা তাকে থামাচ্ছেন।”
নিচের টেবিলে মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তারিখ | ঘটনা/বার্তা | উত্স |
|---|---|---|
| ২০০৬ | ট্রাম্প ফোন করে পুলিশপ্রধানকে বলেছেন, এপস্টিন ‘মন্দ প্রকৃতির লোক’ | এফবিআই নথি |
| ২০০৮ | এপস্টিনের বিরুদ্ধে বিতর্কিত আপস, গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা | ফেডারেল প্রসিকিউটর |
| ২০১৯ | এফবিআই সাক্ষাৎকারে রাইটার সাক্ষ্য প্রদান | এফবিআই নথি |
| ২০২১ | গিলেন ম্যাক্সওয়েল দোষী সাব্যস্ত হয় | আদালতের রায় |
| জুলাই ২০০৬ | ট্রাম্প জানিয়েছেন, এপস্টিনকে মার-এ-লাগো থেকে বের করা হয়েছে | রাইটারের সাক্ষ্য |
রাইটারের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প ফোনে বলেছিলেন, এপস্টিন মার-এ-লাগো ক্লাবে কিশোরীদের উপস্থিতিতে ছিলেন, এবং তিনি তখন দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছিলেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছিলেন, এপস্টিনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলও অত্যন্ত মন্দ প্রকৃতির মানুষ।
২০১৯ সালে, যখন এফবিআই ও ফেডারেল এজেন্টরা এপস্টিনকে নারী পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার করেছিলেন, তখন সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখতেন না এবং বহু বছর ধরে তার সঙ্গে কথা বলেননি। তবে এই নতুন ফোনকলের তথ্য এই বক্তব্যের প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ফ্লোরিডা পুলিশ ২০০৬ সালে পাম বিচে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে এপস্টিনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছিল। পরে এই মামলাটি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং বিতর্কিত আপসের মাধ্যমে এপস্টিনকে গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা করা হয়।
ওই ফোনকল এবং নথি প্রকাশের সময় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, এটি ‘২০০৬ সালে ঘটে থাকতেও পারে, আবার না–ও পারে। তবে প্রেসিডেন্ট সব সময় বলেছে, তিনি এপস্টিনকে মার-এ-লাগো থেকে বের করেছেন কারণ তিনি একজন অসভ্য মানুষ ছিলেন।’
এপস্টিনের জন্য গিলেন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী নীরব থাকার অধিকার গ্রহণ করেছেন। ট্রাম্প এখনও গিলেনকে ক্ষমা করার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি।
এ ধরনের তথ্যের পুনঃপ্রকাশ এপস্টিন–ট্রাম্প সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের জ্ঞানের সময়কাল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করেছে।
