আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করেছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে গঠিত এই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
Table of Contents
মনোনয়ন ফরমের মূল্য ও বিশেষ ছাড়
এনসিপি তাদের মনোনয়ন ফরমের মূল্যের ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও ‘জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা’ এবং নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সাধারণ প্রার্থী: ১০,০০০ টাকা।
জুলাই যোদ্ধা ও নিম্নআয়ের মানুষ: ২,০০০ টাকা।
দলের প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সমাজের সর্বস্তরের যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল কিন্তু সৎ ও যোগ্য, তাদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সময়সীমা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ফরম বিক্রি কার্যক্রম আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে (প্রাথমিকভাবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও পরবর্তীতে তা এক সপ্তাহ বর্ধিত করা হয়েছে)। এরপর ১৫ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সময় বৃদ্ধির কারণে চূড়ান্ত সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। দলটি আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এবং তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করেছে।
এনসিপির মনোনয়ন ও সাংগঠনিক তথ্যের একনজরে রূপরেখা
জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনয়ন ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| রাজনৈতিক দল | জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) |
| দলীয় প্রতীক | শাপলা কলি |
| মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরু | ৬ নভেম্বর, ২০২৫ |
| ফরম সংগ্রহের মাধ্যম | সরাসরি কার্যালয়, অনলাইন এবং সাংগঠনিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে |
| নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী |
| কমিটির সেক্রেটারি | ডা. তাসনিম জারা |
| আবেদনের মূল লক্ষ্য | নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন |
ফরম সংগ্রহের সহজলভ্য মাধ্যমসমূহ
কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি এবং জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. তাসনিম জারা সংবাদ সম্মেলনে ফরম সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনটি প্রধান মাধ্যমে ফরম সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে:
১. সরাসরি সংগ্রহ: প্রার্থীরা রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সশরীরে ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।
২. অনলাইন পদ্ধতি: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা ঘরে বসেই এনসিপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
৩. সাংগঠনিক প্রতিনিধি: যারা সরাসরি কার্যালয়ে আসতে পারবেন না, তারা দলের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের দুই মুখ্য সংগঠক এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন।
নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও আগামীর লক্ষ্য
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এনসিপি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক দল নয়। আমরা চাই যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গড়ে তুলতে। আমাদের বাছাই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে যাতে সৎ ও জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের সাথে অন্যান্য বড় দলগুলোর একটি শক্তিশালী ও আদর্শিক লড়াই হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত এই দলটি শুরু থেকেই নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে ডা. তাসনিম জারার মতো পেশাজীবী ও যুবশক্তির অংশগ্রহণ দলটির প্রতি তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
