এনসিটি আন্দোলন: ১৫ কর্মচারী মোংলা-পায়রায় বদলি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিরোধিতায় আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীকে পুনর্বিন্যাস করে খুলনার মোংলা বন্দর ও পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন আন্দোলনের সমন্বয়কও রয়েছেন। সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, “দাপ্তরিক প্রয়োজনে কর্মচারীদের বদলি ও সংযুক্তি প্রদান করা হলো।” এতে ১৫ জন কর্মচারীর মধ্যে সাতজনকে মোংলা বন্দরে এবং আটজনকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে তিনটি পৃথক আদেশে এই কর্মচারীদের ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপো ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করা হয়েছিল। তবে তাঁরা পূর্ববর্তী এই বদলিপ্রাপ্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি। সোমবার পুনরায় বদলি করে কার্যক্রমে সংযুক্তি দেওয়া হলো।

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সরকারের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায়। গত শনিবার থেকে কর্মচারীরা আট ঘণ্টা করে বন্দর কার্যক্রমে অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। সোমবার আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আন্দোলনকারীরা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে একটানা ২৪ ঘণ্টার বন্দর কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. হুমায়ুন কবিরকে মোংলা বন্দরে এবং মো. ইব্রাহিম খোকনকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। বাদবাকি ১৩ জন কর্মচারীর নাম এবং বদলির নতুন কর্মস্থল নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

ক্রমিককর্মচারীর নামনতুন কর্মস্থল
মো. ফরিদুর রহমানমোংলা বন্দর
মোহাম্মদ শফি উদ্দিনমোংলা বন্দর
রাশিদুল ইসলামপায়রা বন্দর
আবদুল্লাহ আল মামুনপায়রা বন্দর
মো. জহিরুল ইসলামমোংলা বন্দর
খন্দকার মাসুদুজ্জামানপায়রা বন্দর
মো. হুমায়ুন কবিরমোংলা বন্দর
মো. শাকিল রায়হানপায়রা বন্দর
মানিক মিঝিমোংলা বন্দর
১০মো. শামসু মিয়াপায়রা বন্দর
১১মো. লিয়াকত আলীপায়রা বন্দর
১২আমিনুর রসুল বুলবুলমোংলা বন্দর
১৩মো. রাব্বানীপায়রা বন্দর
১৪মো. ইব্রাহিম খোকন (সমন্বয়ক)পায়রা বন্দর
১৫মো. হুমায়ুন কবির (সমন্বয়ক)মোংলা বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, “এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনকে দমাতে এই বদলি করা হয়েছে। তবে ইজারা বাতিল ও বদলির প্রতিবাদে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।”

এভাবে বন্দর শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বদলির মধ্য দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে, তাতে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে তারা আরও সংগঠিতভাবে বন্দর রক্ষা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।