একই প্রার্থীর একই নথিপত্র, অথচ দুই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কলমে এলো দুই ভিন্ন সিদ্ধান্ত। জাতীয় রাজনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা নিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের শুরুতেই এক বিচিত্র পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হলেও বগুড়া-২ আসনে তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। একই হলফনামা ও তথ্যের ভিত্তিতে এক জায়গায় তিনি ‘যোগ্য’ এবং অন্য জায়গায় ‘অযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া-২ আসনে মান্নার প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেশ কিছু গুরুতর আইনি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মান্না তাঁর হলফনামায় অতীতে থাকা ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করেছেন এবং সম্পদ বিবরণীর প্রয়োজনীয় ফরম যথাযথভাবে সংযুক্ত করেননি। এছাড়াও, হলফনামা বা এফিডেভিট সম্পাদনের এক দিন পর স্বাক্ষর করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ত্রুটিগুলোর কারণে বগুড়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, ঢাকার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ঢাকা-১৮ আসনে একই নথিপত্র পরীক্ষা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বগুড়ার এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। তাঁর মতে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাজ প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে সহায়তা করা, কারিগরি কারণে বাধা দেওয়া নয়।
মান্নার মনোনয়ন বাতিলের কারণ ও তুলনামূলক চিত্র
| যাচাইয়ের বিষয় | বগুড়া-২ আসনের চিত্র | ঢাকা-১৮ আসনের চিত্র |
| সিদ্ধান্ত | প্রার্থিতা অবৈধ ও বাতিল। | প্রার্থিতা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য। |
| ত্রুটি নং ১ | ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রদান করা হয়নি। | তথ্যগত কোনো বড় ত্রুটি পাওয়া যায়নি। |
| ত্রুটি নং ২ | সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিলে অসংগতি। | নথিপত্র সঠিক হিসেবে গৃহীত। |
| ত্রুটি নং ৩ | এফিডেভিট ও স্বাক্ষরের তারিখে এক দিনের গরমিল। | আইনি প্রক্রিয়ায় সঠিক বলে বিবেচিত। |
| রাজনৈতিক অবস্থান | বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে মনোনীত। | কৌশলগত কারণে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রার্থী। |
মাহমুদুর রহমান মান্না দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। বগুড়া-২ আসনটি তাঁর রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে বিএনপি তাঁকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জোটের ভেতরে কিছুটা অস্বস্তি ও বিস্ময় রয়েছে। মান্নার ভাষ্যমতে, ঢাকা থেকে লড়াই করার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
তবে এই মনোনয়ন লড়াইয়ের মাঝে মান্না যুগপৎ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক স্তরে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে যা বিরোধী জোটের সংহতি নষ্ট করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পর মান্না কি বগুড়ার সেই আসনটি ফিরে পাবেন, নাকি শুধুমাত্র ঢাকার ময়দানেই সীমাবদ্ধ থাকবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসির এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে উত্তরবঙ্গের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
