সানি লিওনের ক্যারিয়ার সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত, কিন্তু অসাধারণ মোড় নিয়েছে। অমুরাগ কাশ্যপের চলচ্চিত্র কেনেডি-তে তার অভিনয় এবং চরিত্রের গভীরতা এবার দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ছে। এই চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি একটি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। ছবির মুক্তি উপলক্ষে একটি বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে সানি লিওন তার ব্যক্তিগত যাত্রা, চরিত্রে নিঃসন্দেহে প্রাণ ঢোকার অভিজ্ঞতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
Table of Contents
কেনেডিতে নতুন দিগন্ত
কেনেডি-তে সানি লিওন চরিত্র চার্লি-র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যা তার অভিনয় দক্ষতার এমন দিক প্রকাশ করে যা আগে খুব কমই দেখা গিয়েছিল। ছবিটি প্রাথমিক প্রযোজনার তিন বছর পরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে এবং ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লিওন জানিয়েছেন, পরিচালক অমুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য একটি পেশাদারিত্বের বড় সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন,
“প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে, কিন্তু তিনি কখনও অযথা কঠোর হন না। তার প্রত্যাশা খুব সহজ—আপনি প্রস্তুত থাকুন এবং আপনার শিল্পে দক্ষ হোন। তবে তিনি সময় দেন, যা সবার কাছে হয় না।”
লিওনের জন্য চরিত্রের প্রস্তাব পাওয়া ছিল একটি বিস্ময়কর মুহূর্ত। যদিও তিনি মূলধারার বিনোদনে পরিচিত মুখ, কাশ্যপের মতো পরিচালক সঙ্গে কাজ করা তার জন্য স্বপ্নের সমতুল্য ছিল।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও উৎসব প্রদর্শনী
কেনেডি-র প্রথম প্রদর্শনী হয় ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে। এরপর ছবিটি জিও মামী মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব এবং বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়। সমালোচক এবং দর্শক উভয় পক্ষই ছবিটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
| উৎসব | প্রদর্শনের বছর | স্বীকৃতি ও প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| কান চলচ্চিত্র উৎসব | ২০২৩ | মিডনাইট স্ক্রিনিং |
| জিও মামী মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব | ২০২৩ | সমালোচকদের প্রশংসিত |
| সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব | ২০২৪ | ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া |
| লন্ডন ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব | ২০২৪ | প্রশংসা ও স্বীকৃতি |
| বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব | ২০২৪ | দর্শক প্রশংসা |
চার্লির স্বাক্ষর হাসি
লিওন সপ্তাহ পর সপ্তাহ ধরে চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য চার্লির রহস্যময় হাসি নিখুঁত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি লিফটে, সেটে এবং এমনকি বিমানবন্দরে এই অভ্যাসের চর্চা করেছেন।
তিনি জানান,
“আমার চারপাশের মানুষ সম্ভবত ভেবেছিল আমি পাগল হয়ে গেছি, কিন্তু এটি ছিল চরিত্রে পুরোপুরি ঢোকার আমার উপায়।”
অনলাইন মুক্তি ও দর্শক প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ উৎসব পর্বের পর, কেনেডি-র অনলাইন মুক্তি হয় ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। ভারতের মুক্তি কিছুটা বিলম্বিত হলেও, দর্শকরা ছবিটিকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন।
লিওন বলেন,
“প্রত্যেক ছবির একটি নিজস্ব সময় থাকে। যখন মুহূর্তটি সঠিক হয়, তা দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। মুম্বাইয়ে দর্শকরা অসাধারণভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, আর এখন প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করছে যে ছবি সঠিকভাবে পৌঁছায়।”
প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ প্রতিফলন
চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য লিওন সহকর্মী ও সমালোচকদের অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি নিজের যাত্রা নিয়ে প্রতিফলন করে বলেন,
“আমি যদি নিজেকে বলতে পারতাম—সীটবেল্ট ঠিকভাবে বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সংগ্রাম ছাড়া আসে না। আমাকে লড়তে হয়েছে, ধৈর্য ধরতে হয়েছে। প্রতিটি বন্ধ দরজা আমাকে অন্য কিছু চেষ্টা করতে উৎসাহিত করেছে, আর সেই প্রচেষ্টা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।”
সানি লিওনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এক ফোন কল কতটা গভীরভাবে জীবন বদলে দিতে পারে এবং একটি ক্যারিয়ারের গন্তব্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
