নতুন বছরের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এসেছে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দঘন এক সুযোগ। সামান্য পরিকল্পনা আর কৌশল কাজে লাগাতে পারলেই মিলছে টানা চার দিনের দীর্ঘ ছুটি উপভোগের সুযোগ, যা কর্মব্যস্ত জীবনে বিশ্রাম, ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক সময় কাটানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বছরের শুরুতেই এমন দীর্ঘ অবকাশ অনেকের কাছেই মানসিক প্রশান্তি ও নতুন উদ্যম সঞ্চারের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে। এই ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে সরকার নির্বাহী আদেশে বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। সপ্তাহের মাঝখানে এই ছুটি যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ছুটির সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এই ঘোষিত ছুটির সঙ্গে যদি সরকারি চাকরিজীবীরা ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মাত্র এক দিনের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি গ্রহণ করেন, তাহলে টানা চার দিনের অবকাশ নিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ এর পরের দুই দিন—৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি—যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার, যা নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে পালিত হয়। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যক্তিগত ছুটি ব্যবহার করেই চার দিনের দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া সম্ভব, যা অনেকের কাছেই বিরল সুযোগ।
এই দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে অনেকেই দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা ঐতিহ্যবাহী শহর—সব জায়গাতেই বাড়তি ভিড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চান দীর্ঘদিনের জমে থাকা ব্যক্তিগত কাজ সেরে নিতে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে কিংবা নিছক বিশ্রামের মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে। বিশেষ করে যেসব সরকারি কর্মচারী নিয়মিত কর্মচাপের মধ্যে থাকেন এবং টানা ছুটি খুব কমই পান, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির খবর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট সরকারি ছুটির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বছরে সাধারণ ছুটি রয়েছে ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি রয়েছে আরও ১৪ দিন। এর মধ্যে ৯ দিনই পড়েছে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিল রেখে। ফলে বাস্তবে কর্মদিবসের ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও, ছুটির দিনগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে দীর্ঘ অবকাশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
ধর্মীয় ও ঐচ্ছিক ছুটির ক্ষেত্রেও সরকারের নীতিতে রয়েছে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে আলাদা করে ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
নিচের ছকে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| ছুটির ধরন | দিনের সংখ্যা |
|---|---|
| সাধারণ ছুটি | ১৪ দিন |
| নির্বাহী আদেশে ছুটি | ১৪ দিন |
| সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলেছে | ৯ দিন |
| মুসলিম ধর্মীয় ছুটি | ৫ দিন |
| হিন্দু ধর্মীয় ছুটি | ৯ দিন |
| খ্রিস্টান ধর্মীয় ছুটি | ৮ দিন |
| বৌদ্ধ ধর্মীয় ছুটি | ৭ দিন |
| ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐচ্ছিক ছুটি | ২ দিন |
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি ছুটির তালিকা, ধর্মীয় ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয় সম্পর্কে সচেতন থেকে আগেভাগে পরিকল্পনা করতে পারলে অল্প ছুটি ব্যবহার করেই বড় পরিসরের অবকাশ পাওয়া সম্ভব। শবে বরাত উপলক্ষে আসন্ন এই টানা চার দিনের ছুটি তারই একটি বাস্তব উদাহরণ, যা বছরের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনে বাড়তি আনন্দ ও স্বস্তি যোগ করেছে।
