ব্যাংকগুলো এক দামে ডলার বিক্রি করলেও বাজারে সংকট কাটছে না। এখন আমদানিকারকদের কাছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দামে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। এক ব্যাংক অপর ব্যাংকের কাছে একই দামে বিক্রি করছে ডলার। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও এই দামে ডলার বিক্রি করছে। ফলে ডলার বিক্রিতে সব ক্ষেত্রে একই দাম চালু হয়েছে। এরপরও বাজারে ডলারের সংকট কাটেনি, যদিও ডলারের একই দাম হলে সংকট কেটে যাবে বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে সংকট কাটাতে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করা দরকার বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
ডলারের এক দামের অর্থ হলো ডলার কেনার সব ক্ষেত্রে এক দাম হবে, আর বিক্রির ক্ষেত্রেও হবে আরেকটি নির্দিষ্ট একই দাম। তবে বিক্রিতে এক দাম চালু হলেও ব্যাংকের ডলার কেনার ক্ষেত্রে এখনো দুই দাম চলছে। ডলার কেনার ক্ষেত্রে রপ্তানি বিল নগদায়নে প্রতি ডলারের দাম এখন ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা, আর রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ে ১০৯ টাকা। তবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১১৪ থেকে ১১৫ টাকা পর্যন্ত দাম পাচ্ছেন।
ব্যাংকগুলো এক দামে ডলার বিক্রি করলেও বাজারে সংকট কাটছে না
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে নির্ধারণ করা দাম ১ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়েছে। একই দিন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঠিক করা দামে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে।

মূলত সরকারি আমদানি দায় ও প্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানির জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাইয়ে বিক্রি করেছে ১১৪ কোটি ডলার। আর গত মঙ্গলবার বিক্রি করেছে ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার কেনার ক্ষেত্রে ঘোষিত দাম ও প্রকৃত দাম এক নয়। দামের সীমা বেঁধে দেওয়ার কারণে চাহিদামতো ডলার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে কোনো কোনো ব্যাংক বেশি দামে ডলার কিনছে। তবে এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হলে এই মুদ্রার সরবরাহ বাড়ত এবং বাজারে চাহিদামতো ডলার পাওয়া যেত।
এদিকে বাংলাদেশকে দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের অন্যতম শর্ত হলো সব ক্ষেত্রে ডলারের এক দাম নির্ধারণ করতে হবে। এর অংশ হিসেবে ডলারের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে খোলা বাজারে যে দামে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে, তার চেয়ে আনুষ্ঠানিক দর এখনো কম। এ কারণে ডলারের দর আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, কিন্তু তাতে সংকট আরও বেড়ে যায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর।