দেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬৩৬ জন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা শহরের বাইরে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে রোগীদের প্রাথমিকভাবে সেবা প্রদান করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে বিভিন্ন বিভাগের নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা দেখানো হলো:
| বিভাগ/এলাকা | নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা |
|---|---|
| বরিশাল বিভাগ | ৭৫ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ৯৫ |
| ঢাকা (সিটি ছাড়াও) | ১১৬ |
| ঢাকা উত্তর সিটি | ১৪৭ |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি | ৭৪ |
| খুলনা (সিটি ছাড়াও) | ৫৬ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ৪৫ |
| রাজশাহী বিভাগ | ১৭ |
| রংপুর বিভাগ | ২ |
| সিলেট বিভাগ | ৯ |
| মোট | ৬৩৬ |
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গত একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮০৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২,০২৫ জন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৪,৪০২ জন, আর মৃতের সংখ্যা ৩৮২ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে সারা দেশে ১ লাখ ১,২১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ৫৭৫ জন মারা গিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ১,৭০৫ জনের এবং হাসপাতাল ভর্তি হয়েছিল মোট ৩,২১,১৭৯ জন।
এই হিসাবগুলো নির্দেশ করছে যে, প্রতি বছর ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে বর্ষাকালীন সময় ও ঢাকার সিটি এলাকা ও অন্যান্য নগরাঞ্চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন থেকে নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বৃদ্ধি করছে। তাই সামাজিক সচেতনতা, পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ, এবং পোকামাকড় দমন ব্যবস্থা কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
