ঋত্বিক ঘটকের বাড়ির ইট অবশেষে উদ্ধার

রাজশাহীর মিঞাপাড়া এলাকার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ির ধ্বংসাবশেষের ইট অবশেষে পাওয়া গেছে। জানা যায়, এগুলো ফেলা হয়েছিল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে একটি ডোবায়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পড়ে থাকা ভাঙা দেয়ালের ইট দেখে এক সংস্কৃতিকর্মী হঠাৎ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, “এগুলো তো ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভিটার ইট।”

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার, বিজয় দিবসের প্রাক্কালে। অভিযোগ উঠেছিল, কলেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষের ইটগুলো ট্রাকের মাধ্যমে তুলে নিয়ে পুকুর ও ডোবায় ফেলা হয়েছে। স্থানীয় চলচ্চিত্রকর্মীরা বাধা দেয়ার পর প্রশাসন কাজ বন্ধ করে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, “ইটগুলো কোথায় গেছে?”

ট্রাকচালক মো. ওয়াজ জানিয়েছেন, পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাসের পাশে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি পুকুরে একটি ট্রাক ইট ফেলা হয়েছে। আরও দুটি ট্রাক ইট ফেলা হয়েছে রাজশাহী নার্সিং কলেজের পাশের পুকুরপারে। তিনি বলেন, “কবির নামে একজনের সঙ্গে কলেজের স্যারদের চুক্তি ছিল। আমি তাদের নির্দেশে ইটগুলো ফেলে এসেছি।”

ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী সদস্য আতিকুর রহমান বলেন, “একজন কিংবদন্তির বাড়ি ভেঙে ফেলা হলো, তার ইটগুলো লুকিয়ে ফেলা হলো। এটি ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্নের সঙ্গে বিদ্রূপ।” তিনি আরও যোগ করেন, “পুকুর ভরাটও আইনত অপরাধ। প্রশাসন কী করছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।”

ঋত্বিক ঘটকের বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে। বাড়িটি ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের সময়ে ৩৪ শতাংশ জমি রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজকে ইজারা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের চেষ্টা ও ২০২০ সালে জেলা প্রশাসনের সংরক্ষণের উদ্যোগও কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হয়নি।

ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহসান কবির লিটন বলেন, “ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধ্বংস করা হত্যাযজ্ঞের সমান অপরাধ। এই ইটগুলো শুধুমাত্র নির্মাণসামগ্রী নয়; এগুলো শিল্প ও ঐতিহাসিক মূল্য বহন করে।”

ইটের অবস্থান ও তথ্য-উপাত্ত:

ধ্বংসাবশেষঅবস্থানট্রাক সংখ্যামন্তব্য
মূল পৈতৃক বাড়ির ইটবরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিম পাশে পুকুরহাতে পরীক্ষা করা হয়েছে, ইট শনাক্ত
অতিরিক্ত ইটরাজশাহী নার্সিং কলেজ পাশের পুকুরসংস্কৃতিকর্মীরা শনাক্ত করেছেন
মোট ট্রাক সংখ্যাআরও একজন ট্রাকচালক সংক্রান্ত তথ্য অনিশ্চিত