ঋণ বিতর্কে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৃন্দাবন এলাকায় ১৬ দিন আগে রাস্তার পাশে পোড়া অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় আতিকুর রহমানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত ও গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য

ক্রমিকনামবয়সসম্পর্ক / ভূমিকা
আতিকুর রহমান৩২নিহত, নান্দাইল, ময়মনসিংহের কামালপুর গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে
ইমরান হাসান২৪গ্রেপ্তারকৃত, মূল আসামি
টুটুল হাসান২০গ্রেপ্তারকৃত
নাজমুল৩৫গ্রেপ্তারকৃত, ঋণ প্রদানকারী সমিতির প্রধান
কামাল হোসেন৩২গ্রেপ্তারকৃত
রুহানুল ইসলাম রুহান২৩গ্রেপ্তারকৃত
আকবর২৯গ্রেপ্তারকৃত

পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামি ইমরান হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে স্থানীয়রা বৃন্দাবন এলাকার আঞ্চলিক সড়কের পাশে আগুনে পোড়া একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত আতিকুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামি নাজমুলের পরিচালিত একটি সমিতি থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নেন। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর, নাজমুল ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আতিকুরকে খুঁজে বের করেন এবং শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামে তার বাড়িতে আটক রাখেন। পরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

লাশ গোপনের জন্য কাঁঠালপাতার মধ্যে ভরা একটি বস্তায় রাখা হয় এবং বৃন্দাবনের নির্জন স্থানে নেয়ার পর বস্তার উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমদ নিশ্চিত করেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্ন, এবং পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।