ঋণ না পরিশোধের অভিযোগে সোহমের বিরুদ্ধে মামলা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা ও বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। তাঁকে ঋণখেলাপির অভিযোগে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার পটভূমি

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে শাহিদ ইমাম ৬৮ লাখ রুপি ধার দিয়েছিলেন সোহমকে। অভিযোগকারীর দাবি, এর মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ রুপি পরিশোধ হয়েছে। বাকি ৪৩ লাখ রুপি দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ না করায় শাহিদ বাধ্য হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

শাহিদ বলেন,

“দু’বছর অপেক্ষার পর সোমবার সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেছি। মঙ্গলবার চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাকি টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে উল্টো চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে।

সোহম চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ অস্বীকার না করেই সোহম জানিয়েছেন, এই অর্থ একটি চলচ্চিত্রের নির্মাণের জন্য নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন,

“আর্থিক জটিলতা এবং চলচ্চিত্রের মুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় পুরো টাকা একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বাকি ৪৩ লাখ রুপি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি আমি একাধিকবার দিয়েছি।”

সোহম হুমকির অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

ঋণসংক্রান্ত বিবরণ (টেবিল আকারে)

ধারকের নামঋণ প্রদানের বছরমোট ধার নেওয়া অর্থ (রুপি)পরিশোধকৃত অর্থ (রুপি)বাকি অর্থ (রুপি)মন্তব্য
সোহম চক্রবর্তী২০২১68,00,00025,00,00043,00,000চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নেওয়া
শাহিদ ইমাম২০২১অভিযোগ দায়ের করেছেন

আইনগত প্রক্রিয়া

অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। মামলার বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো রায় বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

রাজনীতিক এবং বিনোদন জগতের এই বিরূপ পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধের কারণে রাজনৈতিক চরিত্র ও গণমাধ্যমে বিতর্কের ঝাঁক দেখা দিতে পারে।