খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫ এএম

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ভোট প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনো থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
Table of Contents
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর একদল নারী কর্মী তেঁতুলিয়া গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। তাঁরা বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে ভোট চাওয়ার এক পর্যায়ে ওই গ্রামের এক সক্রিয় বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত নারীদের কাছে নিজেদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইলে গৃহকর্তা ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এই উত্তেজনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারযোগে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। অভিযোগ উঠেছে, তেঁতুলিয়া গ্রামে প্রবেশের পথেই একদল বিক্ষুব্ধ লোক তাঁদের গতিরোধ করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা |
| ঘটনাস্থল | তেঁতুলিয়া গ্রাম, বড়হর ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া। |
| মূল সূত্রপাত | বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জামায়াত কর্মীদের ভোট প্রার্থনা। |
| ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ | ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর। |
| প্রশাসনের ভূমিকা | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ। |
| বর্তমান অবস্থান | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। |
| রাজনৈতিক অবস্থান | বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের নীরবতা। |
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপু কর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোট চাওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক থেকেই এই ঘটনার সৃষ্টি। সংবাদ পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রামটিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী কিংবা বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রচারণার শুরুতে দুই মিত্র শক্তির সমর্থকদের মধ্যে এমন মুখোমুখি অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে উভয় দলেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক রয়েছে, তাই ছোটখাটো এই বিরোধ বড় কোনো রাজনৈতিক রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে জনমনে আলোচনা চলছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় সহনশীলতা বজায় রাখা যেকোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। উল্লাপাড়ার এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে সঠিক নির্দেশনার অভাব থাকলে সাধারণ প্রচারণাও সংঘাতের কারণ হতে পারে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সকল রাজনৈতিক দল তাদের কর্মীদের সংযত রাখবে এবং প্রশাসন কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ সুগম করবে।
মন্তব্য