উত্তরায় শপিং মলে গুজবভিত্তিক ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১২

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ছড়ানো গুজবকে কেন্দ্র করে একটি শপিং মলে ব্যাপক ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার পর নিজ উদ্যোগে মামলাটি দায়ের করে এবং এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতামূলকভাবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত শপিং মলের সামনের অংশে রিকশা দাঁড়ানোর কারণে কয়েকজন রিকশাচালক ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে এই বিবাদ হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এরপর এলাকায় দ্রুত একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে হত্যা করেছেন। গুজবটি ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকায় কর্মরত বহু রিকশাচালক উত্তেজিত হয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

ভাঙচুর ও বিক্ষোভ

উত্তেজিত রিকশাচালকেরা শপিং মলে হামলা চালিয়ে কাঁচের দরজা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে বিপণিবিতানের সামনের প্রধান সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি উত্তেজিত রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে এক রিকশাচালকের কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়েছে। পরে ওই রিকশাচালক ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

তিনি বলেন, “রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে গুজব বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বিপণিবিতানের মালিকপক্ষও পৃথকভাবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রিকশাচালকদের অভিযোগ

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রিকশাচালকেরা অভিযোগ করেন যে, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে আটকে রেখে মারধর করেছেন এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় বা ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানউত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর, সোনারগাঁও জনপথ সড়ক
সময়রোববার রাত প্রায় ১১টা
ঘটনার ধরনগুজবভিত্তিক ভাঙচুর ও বিক্ষোভ
মামলাপুলিশ বাদী হয়ে দায়ের
গ্রেপ্তার১২ জন
অভিযোগের কারণরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব
বর্তমান অবস্থাএলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
তদন্তচলমান, সিসিটিভি ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য যাচাই

পুলিশ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভাঙচুরে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা একটি গুরুতর অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি এবং আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।