আশা ও হতাশার দোলাচলের মধ্যেই এশিয়ান কাপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। একদিকে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের তাজা স্মৃতি, অন্যদিকে শেষ আটে ওঠার ক্ষীণ হলেও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা—এই দুই অনুভূতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আফঈদা খন্দকার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা ও তাঁদের সতীর্থরা।
গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। পার্থে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় শুরু হবে। শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প নেই। শুধু জিতলেই হবে না, অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলও বাংলাদেশের পক্ষে যেতে হবে।
সিডনিতে আগের দুটি ম্যাচ খেলার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিমানযাত্রা শেষে দলটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পৌঁছেছে। সিডনির সময় বাংলাদেশ থেকে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে হলেও পার্থের সময় এগিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টা। ভ্রমণের ক্লান্তি কাটাতে দলটি হোটেলে পৌঁছে কাছাকাছি অবস্থিত কিংস পার্কে হালকা অনুশীলন ও স্ট্রেচিং করেছে।
দলের ফিজিও ইশনাদ জামান জানিয়েছেন, চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিকভাবে বেশ কঠিন ছিল। তবু বর্তমানে খেলোয়াড়দের অবস্থা সন্তোষজনক। তাঁর ভাষায়, ফুটবলারদের বড় কোনো চোট নেই, তবে ছোটখাটো ব্যথা বা ক্লান্তি রয়েছে, যা চিকিৎসা ও বিশ্রামের মাধ্যমে সামলে নেওয়া সম্ভব।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ নারী দল শুরুতে কোনো ফিজিও ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। পরে সিডনিতে পৌঁছানোর পর প্রবাসী ফিজিও ইশনাদ জামানকে দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন ও ফিটনেস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের এই আসরে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সরাসরি শেষ আটে উঠবে। পাশাপাশি তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুটি দলও কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাবে।
নিচের সারণিতে ‘বি’ গ্রুপের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হলো—
| দল | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | গোল ব্যবধান |
|---|---|---|---|---|---|
| চীন | ২ | ২ | ০ | ৬ | +৯ |
| উত্তর কোরিয়া | ২ | ২ | ০ | ৬ | +৭ |
| উজবেকিস্তান | ২ | ০ | ২ | ০ | -৬ |
| বাংলাদেশ | ২ | ০ | ২ | ০ | -৭ |
এই গ্রুপে চীন ও উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। ফলে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ।
‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। সেখানে ফিলিপাইন ও ইরান পয়েন্টশূন্য অবস্থায় রয়েছে। যদি ইরান ও ফিলিপাইনের ম্যাচ ড্র হয় এবং বাংলাদেশ উজবেকিস্তানকে হারাতে পারে, তবে গোল ব্যবধানের হিসাব মিললে বাংলাদেশের সামনে শেষ আটের দরজা খুলে যেতে পারে।
অন্যদিকে ‘সি’ গ্রুপেও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাপান শক্ত অবস্থানে থাকলেও ভারত জাপানের কাছে ১১–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে কার্যত ছিটকে পড়েছে। ফলে ওই গ্রুপ থেকেও তৃতীয় স্থানের প্রতিযোগিতা জটিল হয়ে উঠেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। বর্তমানে উজবেকিস্তানের অবস্থান ৪৯, আর বাংলাদেশের অবস্থান ১১২। শারীরিক শক্তি ও উচ্চতায় উজবেকিস্তানের খেলোয়াড়রা এগিয়ে থাকলেও গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে সৃজনশীলতায় বাংলাদেশের মেয়েরা পিছিয়ে নেই।
উজবেকিস্তান পাঁচবার নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে, তবে প্রতিবারই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা ২০২৯ সালের নারী এশিয়ান কাপের আয়োজকও। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। এই মঞ্চে ওঠার পথে গত বছর র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই আত্মবিশ্বাস, চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এবং শেষ ম্যাচের প্রেরণাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই কঠিন সমীকরণ সামনে থাকলেও পার্থের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়ার আশায় বুক বাঁধছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
