উইন্টারের হাতের সেই আলোচিত ট্যাটু কি তবে কেবলই ইলিউশন?

কে-পপ (কে-পপ) জগতের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছেন দুই জনপ্রিয় তারকা—বিটিএস (বিটিএস) এর জাংকুক এবং আসপা (আসপা) এর উইন্টার। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যখন তাঁদের উভয়ের হাতের ঠিক একই স্থানে অভিন্ন ডিজাইনের ট্যাটু পরিলক্ষিত হয়, তখন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের গোপন সম্পর্কের গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই সম্প্রতি উইন্টারের এক সাহসী উপস্থিতি পুরো বিষয়টিকে এক নতুন রহস্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভক্তদের প্রশ্ন—তবে কি সেই আলোচিত ট্যাটুটি কেবলই একটি ভ্রম ছিল?

দীর্ঘ কয়েক দিনের নীরবতা ভেঙে গত রবিবার উইন্টার তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে কিছু নজরকাড়া ছবি পোস্ট করেন। কালো ও সোনালি রঙের অভিজাত পোশাকে তাঁকে দারুণ উজ্জ্বল দেখালেও, নেটজনতার মূল আকর্ষণ ছিল তাঁর হাতের সেই নির্দিষ্ট স্থানটি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত কয়েক দিনের ভাইরাল ছবিগুলোতে যে ট্যাটুটি স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল, নতুন ছবিগুলোতে তার কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি। এর আগে সিউলে অনুষ্ঠিত মেলন মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের (মেলন মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস) রেড কার্পেটে উইন্টারকে লম্বা হাতার পোশাকে দেখা গিয়েছিল, যা সেই সময় তাঁর ট্যাটু লুকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানের এই ‘ট্যাটুবিহীন’ ছবিগুলো জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—উইন্টার কি চাপের মুখে ট্যাটু মুছে ফেলেছেন, নাকি এটি ছিল নিছক কোনো প্রচারণার অংশ?

জাংকুক ও উইন্টারের এই সম্ভাব্য সম্পর্কের জল্পনা কেবল ট্যাটুতেই সীমাবদ্ধ নেই। ভক্তরা তাঁদের ডিজিটাল লাইফস্টাইলের মধ্যে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর মিল খুঁজে পেয়েছেন, যা নিচে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:

জাংকুক ও উইন্টারের মধ্যকার আলোচিত সাদৃশ্যসমূহ

বিষয়ের ধরণজাংকুক (জাংকুক)উইন্টার (উইন্টার)
ট্যাটু বা নকশাহাতের নির্দিষ্ট স্থানে বিশেষ জ্যামিতিক নকশাঠিক একই স্থানে একই নকশার ট্যাটু
ইউজারনেম প্যাটার্ন‘আই অ্যাম জাংকুক’ (এক সময় ব্যবহার করতেন)‘আই অ্যাম উইন্টার’ (বর্তমান ইউজারনেম)
অডিও সরঞ্জামকাস্টম ডিজাইনের বিশেষ ইন-ইয়ার মনিটরহুবহু একই মডেল ও ডিজাইনের ইন-ইয়ার মনিটর
অনলাইন উপস্থিতিরহস্যময় ডিলিট বা ইউজারনেম পরিবর্তনছবির মাধ্যমে সূক্ষ্ম বার্তা প্রদান

বিশেষ করে উভয়ের ইনস্টাগ্রাম ইউজারনেমের ‘আই অ্যাম…’ (আই অ্যাম…) ফরম্যাটটি ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাংকুক যদিও পরবর্তীতে তাঁর ইউজারনেম পরিবর্তন করেছেন, তবে উইন্টার এখনো সেই একই ধারার নাম ব্যবহার করছেন। এছাড়া স্টেজে পারফর্ম করার সময় কানে যে অত্যাধুনিক ইন-ইয়ার মনিটর ব্যবহার করা হয়, সেটির নকশাও উভয়ের ক্ষেত্রে একদম এক। এতগুলো বিষয়কে নিছক কাকতালীয় হিসেবে মেনে নিতে নারাজ কট্টর কে-পপ ভক্তরা।

এই ক্রমবর্ধমান জল্পনা ও ফ্যান-তত্ত্ব নিয়ে এখন পর্যন্ত জাংকুকের এজেন্সি ‘বিগ হিট মিউজিক’ (বিগ হিট মিউজিক) কিংবা উইন্টারের এজেন্সি ‘এসএম এন্টারটেইনমেন্ট’ (এসএম এন্টারটেইনমেন্ট) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অনেক সময় কে-পপ এজেন্সিগুলো অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে নীরব থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়। উইন্টারের হাত থেকে ট্যাটুর হঠাৎ অন্তর্ধান কি তবে এই নীরবতারই কোনো প্রতিফলন? নাকি এটি একটি আধুনিক ‘কাপল গোলস’ এর নতুন কোনো অধ্যায়? এই রহস্যের উত্তর পেতে হলে ভক্তদের হয়তো আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।