ঈদ নামাজে সংঘর্ষে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

রাজশাহীর মোহনপুরে ঈদের নামাজের ইমামতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন (৬৫) প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে আলাউদ্দিন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

ঘটনা শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে ঘটে। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মৃত মুয়াজ্জিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ হয়। একদিকে বিএনপি কর্মীর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজে কে ইমামত করবেন তা নিয়ে মডেল মসজিদে সন্ধ্যার পর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আলাউদ্দিনের সন্তানদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মী—ওমর ফারুক, মো. রাসেল, আব্দুল করিম, আব্দুল কুদ্দুস—মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। আলাউদ্দিন সন্তানদের সঙ্গে সেখানে পৌঁছালে বিএনপির কিছু কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফেলে দেন এবং তার বুকের ওপর বসার চেষ্টা করেন। সংঘর্ষের সময়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, আলাউদ্দিনের পরিবার জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, আলাউদ্দিন নিজে বিএনপির সমর্থক ছিলেন, যদিও তার ছেলেরা জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয়। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন স্ট্রোকের কারণে মারা যেতে পারেন। কথাকাটাকাটির ঘটনায় স্ট্রোকের সম্ভাবনা রয়েছে।”

পুলিশ রাতেই মহাসড়কের অবরোধ তুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত মুয়াজ্জিনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়ি নিয়ে যান। অভিযোগ থাকলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

তথ্যবিবরণ
মৃতের নামমো. আলাউদ্দিন
বয়স৬৫ বছর
পেশামুয়াজ্জিন, আলাউদ্দিন মডেল মসজিদ
ঘটনা তারিখ ও সময়৭ মার্চ, সন্ধ্যা ৭:৩০
স্থানসাঁকোয়া, মোহনপুর, রাজশাহী
জড়িত পক্ষবিএনপি, জামায়াত
ফলাফলনিহত মুয়াজ্জিন, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর
পুলিশ মন্তব্যপ্রাথমিকভাবে স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু

স্থানীয় নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষ সামাজিক শান্তি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে প্রভাবিত করছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মোহনপুরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।