ঈদে শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে খুলছে ‘মধুবন’

বগুড়ার আধুনিক সিনেমা হল মধুবন সিনেপ্লেক্স ঈদুল ফিতরের দিন থেকে পুনরায় খুলছে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ টানা লোকসানের কারণে এই হল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কয়েক মাস হলটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হলেও এবার এটি আবার মূল উদ্দেশ্যে ফিরছে। পুনরায় খোলার অনুষ্ঠানে শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শিত হবে।

মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, মাসের পর মাস লোকসান গুনতে গুনতে তারা বাধ্য হয়ে হলটি বন্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “হল আমাদের পারিবারিক আবেগের অংশ। শুধু ব্যবসা নয়, ভালো সিনেমা হলে প্রদর্শন করতে হলে প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। আমরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিলাম। আশা করছি, নতুন সরকার দেশি সিনেমার পাশাপাশি বিদেশি ভালো সিনেমা আমদানির উদ্যোগ নিয়ে আমাদের মতো হল মালিকদের সহযোগিতা করবে।”

বগুড়ার সিনেমা হলের ইতিহাস বিবেচনা করলে মধুবনের পুনরায় খোলার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। একসময় জেলাজুড়ে ৩৮টি সিনেমা হল সচল ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭টিতে, যেখানে ৩১টি হল ভেঙে ফেলা হয়েছে বা বন্ধ।

বগুড়ার সিনেমা হল পরিস্থিতি (বর্তমান ও অতীত)

বিষয়অতীত (প্রায় ১০ বছর আগে)বর্তমান সংখ্যামন্তব্য
সচল সিনেমা হল৩৮উল্লেখযোগ্য পতন, মূলত টানা লোকসান ও অবকাঠামোগত সমস্যা
বন্ধ বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হল৩১বেশিরভাগ পুরনো হল ভেঙে ফেলা হয়েছে বা ধ্বংসপ্রাপ্ত
নতুন বা পুনঃখোলা হলমধুবন সিনেপ্লেক্স পুনরায় চালু হওয়া বড় স্বস্তি
কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারকিছু মাসবন্ধ থাকার সময় সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে

মধুবনের পুনরায় খোলা স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আশার বাতাস নিয়ে এসেছে। বগুড়া শহরের সিনেমাপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি আধুনিক হলে দেশি ও আন্তর্জাতিক সিনেমা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। আর এম ইউনুস রুবেল জানান, “আমরা চাই এই হলটি শুধুমাত্র সিনেমা দেখার স্থান হিসেবে নয়, বরং চলচ্চিত্র সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে।”

ঈদে শাকিব খানের নতুন সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যমে মধুবন সিনেপ্লেক্স বগুড়ার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং বগুড়া শহরের সংস্কৃতিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মোটকথা, মধুবন সিনেপ্লেক্সের পুনরায় খোলা স্থানীয় সিনেমাপ্রেমী ও হল শিল্পের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।